নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘এটা স্পষ্ট করে জেনে রাখা ভালো যে, ‘ফর্ম ৬’-এ কোনোরকম পরিবর্তনে আমরা অনুমোদন দিইনি। যখন রেকর্ড পেশ করা হবে, তখন আমরাও দেখতে চাই, এই বদলের সিদ্ধান্ত নিল কে?’ নির্বাচন কমিশনের দাবি নস্যাৎ করে সোমবার সাফ জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুধু তা-ই নয়, দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের হুঁশিয়ারি—‘যদি কোনো বেআইনি কাজ হয়ে থাকে, তার পরিণতিও ভোগ করতে হবে।’
এসআইআরের সময় ভোটার তালিকার নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত ‘ফর্ম ৬’-এ বদল এনেছিল কমিশন। তাতে আগের এসআইআরে বাবা-মা কিংবা অভিভাবকের নাম রয়েছে কি না, তার ‘ডিক্লারেশন’ দিতে হচ্ছিল ভাবী ভোটারকে। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় দৈনিকের তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ‘ফর্ম ৬’-এ সেই বদলকে ‘বেআইনি’ বলে আপত্তি তুলেছিলেন দেশের দুই নির্বাচন কমিশনার। কিন্তু তোয়াক্কা করেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হতেই গত ২৬ সেপ্টেম্বর কমিশন বিবৃতি দিয়ে জানায়, ‘ফর্ম ৬’-এর সঙ্গে ভোটারদের যে ঘোষণাপত্র দিতে হয়েছে, তা বহাল রেখেছিল খোদ সুপ্রিম কোর্ট। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দু’টি মামলার প্রথমদিনের শুনানিতেই পর্যবেক্ষণে দেশের প্রধান বিচারপতি সেই দাবি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে জবাব চেয়ে নোটিস ইস্যু করেছে সুপ্রিম কোর্ট। মোদি সরকারকেও দিতে হবে জবাব। দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু, বিবেক যোশি, কমিশনের ডিজি (আইটি) সীমা খান্না, ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গের নামে পর্যম্ত জারি হয়েছে নোটিস। আর তাতেই মোদি সরকারকে আক্রমণের নতুন অস্ত্র হাতে পেল বিরোধীরা। কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী থেকে মমতা তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রত্যেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সোচ্চার হয়েছেন—‘জ্ঞানেশ কুমারের মিথ্যাচার ফাঁস হয়ে গিয়েছে। প্রমাণ হয়ে গিয়েছে যে, বিজেপিকে জেতাতে পদের অপব্যবহার করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।’ জ্ঞানেশ কুমারের ২০২৫ সালে ছ’মাসের মধ্যে দু’বার সুইজারল্যান্ডের স্টকহোমে সফর করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা। কমিশন অবশ্য আগের অবস্থানেই অনড়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পালটা জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ২৪ জুন কমিশনের সর্বসম্মত অনুমোদনেই বিহারে এসআইআর করার নির্দেশিকা ইস্যু হয়েছিল। ২০২৬ সালের ২৭ মে দেওয়া রায়ে সেই নির্দেশিকা বহাল রেখেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেটাই গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রেস নোটে রাখা হয়।
সর্বভারতীয় ওই সংবাদপত্রের তদন্তমূলক প্রতিবেদনটিকে ভিত্তি করেই সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছে মামলা। জ্ঞানেশ কুমার যে সব জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা বাতিল করা এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার আবেদনও জানানো হয়েছে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে। এদিন প্রথম শুনানিতে প্রধান বিচারপতি অবশ্য বলেন, ‘বিবাদীর বক্তব্য না শুনে কী করে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেব? তাই নোটিস ইস্যু করা হয়েছে।’ আবেদনকারী রাকেশ কুমার সিংয়ের সওয়ালের প্রেক্ষিতে দেশের প্রধান বিচারপতি এও বলেছেন, ‘নোটিসের পরে যদি দেখা যায় কোনো সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়নি, তবে আমরা সেই সিদ্ধান্তগুলি প্রত্যাহার করব।’