Bartaman Logo
৬ অক্টোবর, ২০২৬

জ্ঞানেশ ইস্তফা না দিলে ভোট বয়কটের আহ্বান ককরোচদের

হয় জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, না হলে ভোট বয়কট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইস্তফার দাবিতে এবার সরাসরি এই দাবি তুলল ‘ককরোচ’রা।

জ্ঞানেশ ইস্তফা না দিলে ভোট বয়কটের আহ্বান ককরোচদের
  • ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: হয় জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, না হলে ভোট বয়কট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইস্তফার দাবিতে এবার সরাসরি এই দাবি তুলল ‘ককরোচ’রা। গান্ধী জয়ন্তীতে শুরু হওয়া আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়ছে প্রতিদিন। একদিকে ককরোচ জনতা পার্টি, অন্যদিকে নেহা বোরার মতো তরুণ নেতানেত্রীরা। এবার আন্দোলনের লক্ষ্য একটাই—ভোট ব্যবস্থা। জেন জি’র সাফ কথা, যতদিন না জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা দিচ্ছেন এবং এসআইআর ‘ফ্রিজ’ হচ্ছে, ততদিন নির্বাচনে অংশ নেওয়াটাই অর্থহীন। কারণ, একটি মাত্র দলকে জেতানোর জন্যই এখন ভোট হচ্ছে। অভিজিৎ দিপকের সরাসরি চ্যালেঞ্জ, ‘২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় নির্বাচন করে জিতে দেখাক বিজেপি।’ 

Advertisement

আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত সহ সাত রাজ্যে ভোট। পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে চাপ বাড়ছে পদ্মশিবিরের। রাজধানী থেকে বাণিজ্যনগরী, এসআইআরে কারচুপির অভিযোগে ফুঁসছে দেশবাসী। লক্ষ্য অবশ্যই জ্ঞানেশ কুমার। স্লোগান উঠছে, ‘জ্ঞানেশ মাস্ট গো’, কিংবা ‘জ্ঞানু ইটস ডান ব্রো’। পথে নেমে পড়েছে জেন জি। অনড় তারা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে। প্রতীকী বিক্ষোভ দেখিয়েছে কংগ্রেসের ছাত্র শাখা এনএসইউআই। একের পর এক কর্মসূচি নিয়েছে বিরোধী দলগুলিও। আজ, বিজেপি বিরোধী সাংসদরা নামছেন সংসদ অভিযানে। ককরোচ জনতা পার্টি ঘোষণা করেছে, ১০ অক্টোবর থেকে দিল্লির যন্তরমন্তরে আবারও ব্যাপক আকারে অবস্থান-বিক্ষোভ হবে। মহালয়ায় শুরু হচ্ছে ‘যন্তরমন্তর ২.০’। নেহা বোরা তো ঘোষণা করেই দিয়েছেন, ‘যন্তরমন্তর ২.০ শুরু হয়ে গিয়েছে’। মোদি সরকার এবং দিল্লির পুলিশ-প্রশাসন আন্দোলনের এমন আহ্বানে যথেষ্টই ব্যাকফুটে। কারণ গত ২০ জুলাই দিল্লিতে জেন জি বিক্ষোভ কর্মসূচির অভিজ্ঞতা সরকারের জন্য মোটেও সুখকর নয়! এমন প্রেক্ষাপটে তাই ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বের বড়ো অংশ আশঙ্কা করছে, ১০ অক্টোবরের আগেই তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে। উদ্দেশ্য আন্দোলন দমানোই। একই আশঙ্কায় সোমবার ককরোচ জনতা পার্টি হুমকির সুরে জানিয়েছে, ‘সিজেপির প্রত্যেক নেতাকে ধরে ধরে জেলে পুরলেও কিছুই করতে পারবে না পুলিশ। কারণ যন্তরমন্তর ২.০ সফল করবে আম জনতাই। পুলিশ কতজনকে গ্রেপ্তার করবে? কত জেল আছে তাদের?’ 
স্বাভাবিকভাবেই আগামী ১০ অক্টোবর ‘ককরোচ’দের কর্মসূচি ঘিরে কেন্দ্র-জেন জি প্রবল সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। ঘটনাচক্রে ওইদিন শুধুমাত্র ককরোচ জনতা পার্টিই নয়। একই দাবিতে ১০ অক্টোবর যন্তরমন্তরেই পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়েছে বাম ছাত্র যুব সংগঠনগুলি। এরই পাশাপাশি সিপিএমের শ্রমিক এবং কৃষক সংগঠনও সম্মিলিতভাবে বিক্ষোভ-অবস্থান করবে। অর্থাৎ, বিক্ষোভ জটে নাস্তানাবুদ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে প্রশাসনের। তাই দিল্লিজুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি রাখার সিদ্ধান্তই নিয়েছেন পুলিশ কর্তারা। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে চলছে কড়া নজরদারি। যন্তরমন্তর চত্বরে মোতায়েন বিশাল পুলিশ, আধা সামরিক বাহিনী। সমাজ মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, দিল্লি পুলিশ নেমপ্লেটহীন উর্দি পরে পথে নেমেছে। যাতে তাদের নাম ধরে কেউ চিহ্নিত করতে না পারে। এদিন কিছু অরাজনৈতিক সংগঠনের কর্মসূচির জেরে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদর কার্যালয় সংলগ্ন একাধিক রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে সোমবার আইসা নেত্রী নেহা বোরা অভিযোগ করেছেন, ‘পদক্ষেপ করা দূর-কি-বাত। বরং হেনস্তার শিকার হওয়া মহিলা সাংবাদিকদেরই আটক করছে দিল্লি পুলিশ।’ হেনস্তার শিকার হওয়া মহিলাদের আইনি সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে আইসা। জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্টের দাবিতে এদিন বিকালে পিপলস নোটিস পেশ করেছে অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের একটি সংগঠন। নোটিসে প্রথম স্বাক্ষরকারীর নাম? দিল্লির প্রাক্তন উপরাজ্যপাল নাজিব জং। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ