Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

‘র‍্যাঙ্ক জাম্প’ করা চাকরিহারা প্রার্থীদের পরীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা, ‘অযোগ্য’ চিহ্নিতদের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

স্কুল সার্ভিস কমিশনের মামলায় ‘র‌্যাঙ্ক জাম্প’ করে চাকরি পাওয়ারা ‘অযোগ্য’ তথা দাগীই (টেন্টেড)। তারা কোনওভাবেই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে না।

‘র‍্যাঙ্ক জাম্প’ করা চাকরিহারা প্রার্থীদের পরীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা, ‘অযোগ্য’ চিহ্নিতদের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে
  • ২২ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি:  স্কুল সার্ভিস কমিশনের মামলায় ‘র‌্যাঙ্ক জাম্প’ করে চাকরি পাওয়ারা ‘অযোগ্য’ তথা দাগীই (টেন্টেড)। তারা কোনওভাবেই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে না। বুধবার ফের স্পষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। তাই ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যতই তাঁরা পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পান না কেন, নতুন করে আর কোনও সুযোগ তাঁদের সামনে রইল না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের জেরে নবম-দ্বাদশের সহকারী-শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মী মিলিয়ে মোট ৪৬৩ জন নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। 

Advertisement

স্কুল সার্ভিস কমিশনের মামলায় গত ৩ এপ্রিল তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের রায়ে চাকরি বাতিল হয়েছিল ২৫ হাজার ৭৫২ জনের। স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, দুর্নীতিগ্রস্ত বা দাগীদের চাকরি তো যাবেই, সঙ্গে ফেরত দিতে হবে বেতনের অর্থ। যারা দুর্নীতিগ্রস্ত বলে চিহ্নিত হয়নি, তাদের চাকরি খোয়া গেলেও বেতনের অর্থ ফেরত দিতে হবে না। দুর্নীতিগ্রস্ত বলে যাঁরা চিহ্নিত নয় এবং দিব্যাঙ্গ (প্রতিবন্ধী), তারা নতুন নিয়োগে অংশ নিতে পারবেন। রাজ্য সরকারের তালিকা মোতাবেক নবম-দ্বাদশ, যেসব সহকারী শিক্ষকরা যোগ্য বলে বিবেচিত, তাদের চাকরি আপাতত ৩১ ডিসেম্বর বজায় থাকবে। একইভাবে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও তাঁরা অংশ নিতে পারবে। 
কিন্তু যারা র‌্যাঙ্ক জাম্প করে চাকরি পেয়েছেন, তারা তো পরীক্ষা দিয়েছেন। পাশ করেছেন। খালি খাতা জমা দেননি। ওএমআর শিট নিয়েও কোনও বিতর্ক নেই। তাহলে তাদের কেন দুনীর্তিগ্রস্ত বলে ধরা হবে? এই প্রশ্ন তুলেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন শক্তিপদ মাইতি সহ কয়েকজন। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চে ছিল শুনানি। তাঁদের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী মীনাক্ষী অরোরা। তাঁর বক্তব্য, আমার মক্কেলরা তো নিজেরা র‌্যাম্প জাম্প করেনি। পরীক্ষা, ইন্টারভিউ দিয়ে চাকরি পেয়েছেন। তাহলে তাঁদের কেন দুর্নীতিগ্রস্ত বা দাগী তথা অযোগ্য বলা হচ্ছে? 
ঘটনা হল, যোগ্যদের তালিকা তৈরি করে রাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট ইন্সপেক্টর অব স্কুল সার্ভিসের জেলায় জেলায় নোটিস পাঠাচ্ছে। গত ২৯ এপ্রিল থেকে তা শুরু হয়েছে। শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের একটি পোর্টাল রয়েছে। ইন্টিগ্রেটেড স্যালারি ম্যা঩নেজমেন্ট সিস্টেম বা আইওএসএমএস। সেখানেই সুপ্রিম কোর্টে র‌্যাঙ্ক জাম্প করা একাংশ আবেদনকারীরা দেখেন তাঁদের নাম নেই। তবে কি রাজ্য সরকার তাঁদের অযোগ্য তথা দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে? অবস্থান স্পষ্ট করে নিতেই শীর্ষ আদালতে আবেদন। চেষ্টা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার ছাড়পত্র আদায়।
কিন্তু শুনানির গোড়াতেই মামলার পর্যবেক্ষণে বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের মন্তব্য, ‘আপনারা টেন্টেড মানে টেন্টেড। আর কোনও কথা হতে পারে না।’ এরপরই স্কুল সার্ভিস কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘জানি কমিশন আপনাদের জন্য বাড়তি উদ্যোগ নিয়েছিল। তারা র‌্যাঙ্ক জাম্প করিয়েছে। তবে মূল রায়ে (৩ এপ্রিল ২০২৫) যেহেতু আপনাদের অযোগ্য তথা দুর্নীতিগ্রস্ত ব঩লেই চিহ্নিত করা হয়েছে, সুতরাং ঘুরিয়ে সেই রায়ের পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) করানোর চেষ্টা করবেন না। মামলা খারিজ।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ