Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

বাংলায় মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

২০২০ সালের আগে মাদ্রাসায় ম্যানেজিং কমিটি নিযুক্ত শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীদের চাকরি বৈধ কি না, তা বিচার করবে সুপ্রিম কোর্ট।

বাংলায় মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ২০২০ সালের আগে মাদ্রাসায় ম্যানেজিং কমিটি নিযুক্ত শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীদের চাকরি বৈধ কি না, তা বিচার করবে সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার আবেদনকারীদের উদ্দেশে বেশ কয়েকটি প্রশ্নের জবাব চেয়ে আগামী ১৭ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে এমনটাই জানিয়ে দিল বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহর বেঞ্চ। 

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসায় শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী নিয়োগের দায়িত্ব একসময় ম্যানেজিং কমিটির হাতে ছিল। রাজ্য সরকার বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে। রাজ্যের বক্তব্য, নিয়োগের অধিকার মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের। সুপ্রিম কোর্টও ২০২০ সালে এক নির্দেশে 
জানিয়ে দেয়, এখন থেকে নিয়োগ করবে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনই। তবে আগে যা নিয়োগ হয়েছে, সেটি বজায় থাকবে। আগে নিযুক্তদের বকেয়া বেতনও দিতে হবে। 
অন্যদিকে, মাদ্রাসার বৈধতা, অনুমোদন আছে কি না, ইত্যাদি পরীক্ষার জন্য সুপ্রিম কোর্ট একটি তিন সদস্যের কমিটি গড়ে। সেই কমিটির রিপোর্ট মাদ্রাসাগুলির ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে যায়। তাই সেটিকে চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি ম্যানেজিং কমিটি নিযুক্ত শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীদের একাংশের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও তাঁরা বেতন পাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে ৩৬১ টি মামলা জমা পড়েছে। 
বুধবার শুনানিতে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত আবেদনকারীদের প্রশ্ন করেন, আপনাদের তো অনুমোদনই (রেকগনিশন) নেই। তাহলে কী করে চাকরি বজায় থাকবে? তবে আবেদনকারী নাজমা খাতুন সহ অন্য আবেদনকারীর আইনজীবীদের দাবি, অনুমোদন আছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকার অনুমোদন রিনিউ করেনি। তাই সমস্যা। তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে পৃথক মামলা চলছে। 
যদিও এসবে সন্তুষ্ট হননি বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত। শুনানির পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, কোনও প্রতিযোগিতা নেই, পছন্দের ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়া যায় নাকি? যেখানে পাবলিক মানি খরচ হচ্ছে। সরকার বেতন দিচ্ছে। চাকরির নিয়োগপত্র কি ডিস্ট্রিক্ট ইন্সপেক্টর (ডিআই) অনুমোদন করেছিলেন? আবেদনকারীদের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করান বিচারপতি দত্ত। শেষমেশ ঠিক হয়, এত মামলা নয়। শিক্ষকদের পক্ষে ১০ এবং অশিক্ষকদের পক্ষে পাঁচজনের আবেদন শোনা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে জানাতে হবে, মাদ্রাসার অনুমোদন ছিল কি না? ম্যানেজিং কমিটি বৈধ কি না? শিক্ষকের নামের প্যানেল ডিআই অনুমোদন করেছিলেন কি? দেখাতে হবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারও। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ