Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

নতুন নিয়োগ পর্যন্ত যোগ্য শিক্ষকদের চাকরি ‘বহাল’, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

চাকরিহারাদের আপাতত স্বস্তি! আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘বহাল’ থাকছে সহকারী শিক্ষকদের চাকরি।

নতুন নিয়োগ পর্যন্ত যোগ্য শিক্ষকদের চাকরি ‘বহাল’, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
  • ১৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: চাকরিহারাদের আপাতত স্বস্তি! আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘বহাল’ থাকছে সহকারী শিক্ষকদের চাকরি। তার মধ্যেই শেষ করতে হবে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেকথা মাথায় রেখেই বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হল, ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত নন, এমন সহকারী শিক্ষকদের জন্যই পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের আবেদন অনুমোদন করা হচ্ছে। ‘গ্রুপ সি এবং ডি’ অর্থাৎ শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে ‘অযোগ্য’ নিয়োগের সংখ্যা অনেক বেশি। তাই তাদের চাকরি বহাল থাকবে না। দেশের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই সহকারী শিক্ষকরা কোনও বাড়তি সুবিধা পাবে না। আগামী ৩১ মে’র মধ্যে নতুন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে। গোটা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে।

Advertisement

সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশে খুশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বিকেলে নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যা মিটে যাবে। এদিনের নির্দেশের পর বেতন দেওয়া নিয়ে সমস্যা রইল না। শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা স্কুলের কাজে যোগ দিন। চিন্তা করবেন না। সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে।’ শিক্ষাকর্মীদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অনুরোধ, ‘ভরসা রাখুন। কারও প্ররোচনায় পা দেবেন না।’ যদিও নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে এসএসসিকে চিন্তায় রেখেছে ওবিসি সংরক্ষণের বিষয়টি। কারণ, গত বছরই রাজ্যের ১২ লক্ষ ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা এখনও সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে রয়েছে।
দু’সপ্তাহ আগে এমনই এক বৃহস্পতিবার (গত ৩ এপ্রিল) এসএসসি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রেখেছিল শীর্ষ আদালত। চাকরি হারিয়েছিলেন রাজ্যের ২৫ হাজার ৭৫২ জন শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী। কিন্তু তাঁদের চাকরি বহাল রাখতে বদ্ধপরিকর ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই চারদিন পরেই মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে দিয়ে আবেদন জানানো হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেই আবেদনের সিংহভাগেই সায় দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। তা এক বাক্যে মেনে নেন রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিবাল, রাকেশ দ্বিবেদী ও পর্ষদের আ‌ইনজীবী নীরজ কাউল। এসএসসির আইনজীবী জয়দীপ গুপ্ত এবং কুণাল চট্টোপাধ্যায়রা জানিয়ে দেন, নতুন রুল তৈরি করে চারটি বিজ্ঞাপন দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হবে। তা শুনে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, ৩১ মে’র মধ্যে পর্ষদ বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে কি না, তা জানাতে হবে। আর নির্দেশ না মানলেই উপযুক্ত পদক্ষেপ। হবে জরিমানাও। 
মূল মামলাকারী বঞ্চিত শিক্ষকদের পক্ষে এদিন ভার্চুয়াল মাধ্যমে এজলাসে হাজির ছিলেন সিপিএম সাংসদ তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। সশরীরে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম এবং বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা নির্দেশের বিরোধিতা করেননি। শুনানি শেষে বিকাশবাবু অবশ্য বলেন, ‘সাময়িক স্বস্তি নয়, এটা ব্যাপক অস্বস্তি। অযোগ্য চিহ্নিত হননি যারা, তাদেরও চাকরি ডিসেম্বরে চলে যাবে। অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে সরকারকে।’ যদিও রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছেন, এই রায় অল্প হলেও আশাব্যঞ্জক। আগামী ২১ তারিখ যোগ্যদের তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে এসএসসি’র। বিরোধীদের আন্দোলন স্তিমিত হওয়া উচিত। যদিও এর মধ্যে রাজ্য সরকার ‘অযোগ্য’দের থেকে বেতন ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু না করায় আদালত অবমাননার মামলা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ