নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে পড়ুয়াদের মধ্যে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। এবার তাই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। শুধু তাই নয়, পড়ুয়াদের আত্মহত্যা ঠেকাতে ও তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি খেয়াল রাখতে দেশজুড়ে শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য ১৫ দফা গাইডলাইন বেঁধে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এই বিষয়ে সরকার উপযুক্ত আইন বা আইনি কাঠামো তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এই গাইডলাইন বলবত্ থাকবে। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এক ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু নিয়ে শুনানি ছিল। কলকাতার নেতাজিনগরের বাসিন্দা ওই ছাত্রী ২০২৩ সালে বিশাখাপত্তনমের একটি প্রতিষ্ঠানে নিটের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু হস্টেল থেকে পড়ে গিয়ে ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়। পুলিস ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বললেও, ছাত্রীর বাবা দাবি করেছিলেন, মেয়ের মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও রহস্য হয়। ঘটনার সিবিআই তদন্ত চেয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই ছাত্রীর বাবা। কিন্তু হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন ওই ব্যক্তি। গাইডলাইন বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি ওই ছাত্রীমৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্য নীতি গ্রহণ করতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মনোদর্পণ’ উদ্যোগ, উমিদ গাইডলাইনের খসড়া ও ন্যাশনাল সুইসাইড প্রিভেনশন স্ট্র্যাটেজির উপর ভিত্তি করে ওই মানসিক স্বাস্থ্য নীতি তৈরি করতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ও নোটিস বোর্ডে নীতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। প্রতি বছর এই নীতি পর্যালোচনা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোটা, জয়পুর, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, দিল্লি ও মুম্বইয়ের মতো যে সব শহর কোচিং হাব বলে পরিচিত, সেখানে পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টির দিকে নজর দেওয়ার জন্য বিশেষ করে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ওই শহরগুলিতে প্রতি বছর বহু পড়ুয়া প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়তে আসে। যার ফলে ওই শহরগুলিতে পড়ুয়াদের আত্মহত্যার হারও অত্যন্ত বেশি। তাই ওই প্রতিষ্ঠানগুলির পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখতে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বছরে অন্তত দু’বার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ওই প্রশিক্ষণের দায়িত্বে থাকবেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে পড়ুয়ারা অস্বাভাবিক আচরণ করলে, সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
এছাড়া ওই গাইডলাইনে প্রতিটি ব্যাচের পড়ুয়াদের জন্য মনোবিদের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে। পরীক্ষার সময় পড়ুয়াদের চাপ কমাতে তাঁরা সাহায্য করবেন। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, পারফর্ম্যান্স, অ্যাকাডেমিক টার্গেটের উপর ভিত্তি করে পড়ুয়াদের ব্যাচ আলাদা করা যাবে না। পড়ুয়াদের জন্য আত্মহত্যা প্রতিরোধী হেল্পলাইন নম্বর হস্টেল, ক্লাসরুম, ওয়েবসাইটে উল্লেখ করতে হবে বলা হয়েছে।