নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জট কেটেও কাটল না। ফেডারেশনে নতুন সংবিধান চালু নিয়ে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অপেক্ষায় ছিল ফুটবল মহল। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে আপাতত নির্বাচন হচ্ছে না ফেডারেশনে। অর্থাৎ সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার সভাপতি পদে কল্যাণ চৌবেই কাজ চালাবেন। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালে। সেক্ষেত্রে পুরো মেয়াদ সম্পূর্ণ করার সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা। শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে আপাতত স্বস্তি ফেডারেশনে। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আগামী ১ মাসের মধ্যে নতুন সংবিধান চালু করতে হবে। উল্লেখ্য, সংবিধান লাগু করার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল ফিফা। ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সমস্যা না মিটলে অনিবার্য ছিল নির্বাসন। তবে সুপ্রিম রায়ের পর দ্রুত সমাধানের আশায় ফুটবল মহল। ২০১৭ সালে ফেডারেশনের নতুন সংবিধান তৈরির কাজ শুরু হয়। পাঁচ বছর পর খসড়া জমা দেওয়া হয় সুপ্রিম আদালতে। এই সংবিধান প্রয়োগ নিয়েই দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন চলছে। নয়া সংবিধান চালু হলে কার্যকরী সমিতিতে প্রাক্তন ফুটবলারের সংখ্যাও বাড়বে। পাশাপাশি অন্য আশঙ্কাও রয়েছে। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা। কোনও দেশের ফেডারেশন চালানোর ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করে না তারা। তাই চিন্তার ভাঁজ থেকেই যাচ্ছে।
অন্য সমস্যাও রয়েছে। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, বিষয়টি এত সহজ নয়। খসড়া সংবিধানের দু’টি বিষয় নিয়ে জট পাকতেই পারে। প্রথম ক্ষেত্রে দেশের শীর্ষ লিগের রাশ থাকবে ফেডারেশনের হাতে। প্রশ্ন উঠছে এমনটা হলে ভবিষ্যতে টাকা ঢালতে এফএসডিএল কী আদৌ উৎসাহী হবে? পাশাপাশি খসড়ায় পরিষ্কার, প্রমোশন ও রেলিগেশনের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। এই মুহূর্তে আইএসএল ভারতের এক নম্বর টুর্নামেন্ট। কিন্তু তার মালিকানা এফএসডিএলের হাতে। আই লিগ চ্যাম্পিয়ন দল আইএসএল খেলার সুযোগ পায়। তাই আইএসএলে প্রমোশন থাকলেও নেই কোনও অবনমন। সবমিলিয়ে চিন্তা থেকেই যাচ্ছে।
দেশের শীর্ষ লিগ কবে শুরু হবে? আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে ফুটবল মহল। দরপত্রের মাধ্যমে কমার্শিয়াল পার্টনার বাছাই হবে। যাবতীয় প্রক্রিয়া মেনে ডিসেম্বরের মাঝমাঝি বল গড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এখনও দলগঠন শুরু করেনি বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। পূর্ণশক্তি নিয়ে টুর্নামেন্ট খেলতে পর্যাপ্ত প্রি-সিজন প্রয়োজন। ইতিমধ্যেই আইএসএল পিছিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে তারা। সবমিলিয়ে জট কেটেও যেন কাটছে না।



