Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬

বকেয়া ডিএ’র ২৫ শতাংশ মার্চেই, রাজ্য সরকারকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

‘মৌলিক অধিকার’ কিনা তা নিয়ে বিতর্ক জিইয়ে থাকল। তবে ডিয়ারনেস অ্যালাউন্স (ডিএ) বা মহার্ঘভাতা সরকারি কর্মচারীদের ‘আইনি অধিকার।’ বৃহস্পতিবার এমনই রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট।

বকেয়া ডিএ’র ২৫ শতাংশ মার্চেই, রাজ্য সরকারকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘মৌলিক অধিকার’ কিনা তা নিয়ে বিতর্ক জিইয়ে থাকল। তবে ডিয়ারনেস অ্যালাউন্স (ডিএ) বা মহার্ঘভাতা সরকারি কর্মচারীদের ‘আইনি অধিকার।’ বৃহস্পতিবার এমনই রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। পশ্চিমবঙ্গের ডিএ মামলার রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর বেঞ্চের নির্দেশ, কেন্দ্রীয় হারে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দিতে বকেয়ার ২৫ শতাংশ আগামী ছ’ সপ্তাহের মধ্যে মেটাতে হবে। বাকি ৭৫ শতাংশ কবে, কীভাবে, কত কিস্তিতে দেওয়া হবে, তা ঠিক করবে সুপ্রিম কোর্টের গঠন করে দেওয়া চার সদস্যের কমিটি।

Advertisement

কমিটির মাথায় থাকবেন শীর্ষ আদালতের প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা। এছাড়াও থাকবেন ঝাড়খণ্ড এবং ছত্তিশগড় হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তার্লোক সিং চৌহান, গৌতম ভাদুড়ি। চতুর্থ সদস্য কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল অথবা তাঁর মনোনীত কোনো আধিকারিক। আগামী ৬ মার্চের মধ্যে ওই কমিটি বিধি ঠিক করবে। ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া ৭৫ শতাংশর প্রথম কিস্তির টাকা মেটাতে হবে। ২০০৮-’১৯,  এই সময়ে বর্ধিত হারের বকেয়া মিলবে। মামলা চলাকালীন যাঁরা অবসর নিয়েছেন, তাঁরাও এই বকেয়া পাবেন বলেই জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। পশ্চিমবঙ্গ সরকার আদালতের রায় ঠিক মতো মানল কিনা, তা নিয়ে একটি স্টেটাস রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে হবে। আগামী ১৫ এপ্রিল শীর্ষ আদালতে তা জানাতে হবে।

এব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এখনও রায়ের কপি হাতে পাইনি। যে কমিটি তৈরির কথা আদালত বলেছে, সেখানে তিনজন প্রাক্তন বিচারপতি এবং ক্যাগের একজন প্রতিনিধি থাকবেন। রাজ্যের কোনও প্রতিনিধি সেখানে নেই। তাই আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলব। মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে রাজ্য কীভাবে এগোবে, তা ঠিক করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, দেশের বহু রাজ্যেই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা পেনশন পান না। একমাত্র বাংলাতেই অবসরের পর পেনশন দেওয়া হয়। আমি যদি পেনশন না দিই, কত টাকা বেঁচে যাবে বলুন তো? কিন্তু যাঁরা পেনশনের ওপর নির্ভরশীল, তাঁরা কী করবেন? পশ্চিমবঙ্গে মানুষ যে সুযোগ-সুবিধা পান, তা অন্য অনেক রাজ্যেই তা নেই।’

সুপ্রিম কোর্টের ১২৪ পাতার রায়ের ফলে রাজ্য সরকারের ঘাড়ে এখনই ১০ হাজার ৪৪২ কোটি টাকার বোঝা চাপল। কেন্দ্রীয় হারে গত ১১ বছরের বকেয়া ডিএ মেটাতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খরচ হবে ৪১ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। ঘটনা হল, রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা যথারীতি ডিএ পান। ২০০৮ সালে কর্মচারীরা যে ডিএ পেতেন, তার চেয়ে এখন ১২৫ শতাংশ বেশি পাচ্ছেন। তারপরেও কর্মীদের চাহিদা বছরে দু’বার ডিএ দিতে হবে। এবং তা কেন্দ্রীয় হারে। তাই প্রথমে ট্রাইবুনাল, পরে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠন ‘কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্মেন্ট এমপ্লয়িজ।’

কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্য সরকার হেরে যায়। তাই সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ২০২২ সালের ৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে আসে সরকার। সেই থেকে গত চার বছরে ২৬ বার শুনানি হয়েছে। গত বছর ৮ সেপ্টেম্বর রায় স্থগিত রাখে শীর্ষ আদালত। আজ সেই রায়দান হল। যেখানে কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বকেয়া মেটাতে রাজ্যকে নির্দেশ দিলেও সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, বছরে দু’বার ডিএ দিতেই হবে, এমন কোনও বিধি নেই। তবে রোপা (রিভিশন অব পে অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) মেনে এবং এআইসিপিআই (অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স) অনুসরণ করে মহার্ঘ ভাতা দিতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ