সুকান্ত বেরা, আমেদাবাদ: বাহ্যিক বেশভূষা এবং সৌন্দর্যে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল বিমানবন্দরের বাইরের পরিবেশ চোখ টানতে বাধ্য। মখমলের মতো রাস্তা। দু’ধারে নানা রংয়ের ছটায় বসন্তকে স্বাগত জানাচ্ছে বোগেনভেলিয়ার সারি। মনে হবে, গোটা শহরটাই এভাবে সাজানো। কিন্তু না, ক্যাব ড্রাইভার জোরে ব্রেক কষতেই ভুল ভাঙল খুব তাড়াতাড়ি। বিরাট গর্ত এড়াতে আচমকা বাঁক নিতে হল হেলমেটহীন বাইক আরোহীকে। কোনোক্রমে বাঁচলেন তিনি। ক্যাব চালক বললেন, ‘গতির বিস্ফোরণের মধ্যেও সাবধান থাকা জরুরি।’
ঠিক একই কথা প্রয়োজ্য টিম ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রেও। গ্রুপ পর্বে চারে-চার। সূর্যকুমারদের সাফল্য হাইওয়েতে বাইক ছোটানোর মতো মনে হলেও কিছু সমস্যা রয়েছে। ছন্দে নেই অভিষেক শর্মা। স্পিনের বিরুদ্ধে রানের গতি কমছে। পাশাপাশি ক্যাচও মিস হচ্ছে প্রচুর। তাই সাবধান গম্ভীর-ব্রিগেড। রবিবার সুপার এইটের লড়াইয়ে ভারতের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপ পর্বে দুই দলই অপরাজিত। অতএব কাঁটে কা টক্কর।
শনিবার দুপুর দুটো থেকে ছিল টিম ইন্ডিয়ার অনুশীলন। ঘণ্টা দেড়েক আগেই দল নিয়ে হাজির কোচ গম্ভীর। তবে প্র্যাকটিস করলেন মাত্র চার ক্রিকেটার— ঈশান কিষান, রিঙ্কু সিং, সূর্যকুমার যাদব ও কুলদীপ যাদব। কিন্তু অভিষেক শর্মা কোথায়? এই পরিস্থিতিতে তাঁর তো রোদে পুড়ে নেটে ঘাম ঝরানো উচিত। জানা গেল, অভিষেক টিম হোটেলেই। টিম ম্যানেজমেন্টের যুক্তি, যে ছেলে সারা বছর পড়ে তার পরীক্ষার আগে পড়ার প্রয়োজন নেই। প্র্যাকটিসে ঈশানকে দেখা গেল অফ স্পিনারের বিরুদ্ধে তুলে তুলে ছক্কা মারতে। কৌশল এটাই, শুরুতে অভিষেককে যদি স্পিনার দিয়ে ঘেরার চেষ্টা হয়, তাহলে পালটা চালাবেন ঈশান। এক সহযোদ্ধার পাশে বাকিরা। টিম গেমের আদর্শ নিদর্শন। প্রোটিয়া বধে সেটাই বাজি টিম ইন্ডিয়ার।
গ্রুপ পর্বে নামিবিয়া ছাড়া বাকি তিন ম্যাচে দুশো টপকাতে পারেনি সূর্য বাহিনী। অনেকেই তিলকের মন্থর ব্যাটিংকে দায়ী করছেন। কিন্তু শুরুতে উইকেট পড়ায় অ্যাঙ্করের ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে তাঁকে। তবে শুরুটা ভালো হলে হার্দিক কিংবা দুবেকে আরও উপরে তুলে আনা হতে পারে। তারপর তো আছেন বিগ হিটার রিঙ্কু।
গত বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের বদলা নিতে মুখিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। মোতেরায় একটানা খেলার কারণে মার্করামরা এটাকে হোম ম্যাচ হিসাবেই দেখছেন। প্রোটিয়াদের ব্যাটিং খুবই শক্তিশালী। দুরন্ত ফর্মে ক্যাপ্টেন মার্করাম। এছাড়া ডি’কক, রিকেলটন, ব্রেভিস, মিলার, স্টাবস— প্রত্যেকেই ম্যাচ উইনার। তাই পাওয়ার প্লে’তে উইকেট নিতে হবে বুমরাহ ও অর্শদীপকে। বোলার হার্দিকের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মিস্ট্রি স্পিনার বরুণের উপর বাড়তি ভরসা রাখবেন ক্যাপ্টেন সূর্য। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা অস্ত্র অলরাউন্ডার করবিন বশ ও জানসেন। স্পিনার মহারাজও ভেল্কি দেখাতে তৈরি। রয়েছেন রাবাডা, এনগিডিরা। তবে ঈশান-অভিষেক জুটি দাঁড়িয়ে গেলে চেনা মোতেরাও অচেনা ঠেকবে প্রোটিয়াদের কাছে।