সুকান্ত বেরা, কলকাতা: শ্রীলঙ্কার মাটিতে ১-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতেও প্রবল সমালোচনার মুখে গিল বাহিনী। কারণ, স্কোরলাইন টিম ইন্ডিয়ার পক্ষে ২-০ হওয়ার কথা ছিল। কলম্বোয় চতুর্থ দিনের পর স্কোরবোর্ড অন্তত সেই পূর্বাভাসই দিয়েছিল। ভারতের দরকার ছিল বিপক্ষের বাকি ৪ উইকেট দ্রুত ফেলা এবং স্বল্প টার্গেট অনায়াসেই চেজ করা। কিন্তু পঞ্চম দিনে সর্বসাকুল্যে জাদেজাদের ঝুলিতে জমা পড়ে মাত্র ৩ উইকেট। একা সোনাল দিনুশাই রুখে দেন টিম ইন্ডিয়াকে। এই ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট টিম ইন্ডিয়ার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার পথ আরও কঠিন করল।
সাধারণত, টেস্টের পঞ্চম দিনে স্পিনাররাই দাপট দেখান। কিন্তু কলম্বোয় পঞ্চম দিনে ভারতীয় স্পিনারদের নির্বিষ বোলিং শ্রীলঙ্কাকে লজ্জার হাত থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। প্রশ্ন হচ্ছে, এটাই কি দেশের সর্বকালের দুর্বল স্পিন কম্বিনেশন? একটা সময় ভারতের স্পিন বোলিং ছিল গর্ব করার মতো। সেটাই এখন কাঁটা হয়ে বিঁধছে। ছয় বা সাতের দশকে এরাপল্লি প্রসন্ন, শ্রীনিবাস বেঙ্কটরাঘবন, বিষেণ সিং বেদি, ভগবত চন্দ্রশেখরদের খেলতে তাবড় তাবড় বিদেশি ব্যাটারদের ঘুম ছুটত। চার কিংবদন্তির সম্মিলিত টেস্ট উইকেট ৮৫৩। পরবর্তী সময়ে এই ধারা বহন করেন অনিল কুম্বলে, হরভজন সিংরা। বহু ম্যাচ জিতিয়েছেন তাঁরা। কুম্বলে ভারতের সর্বাধিক উইকেট শিকারিও। ইডেনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টিম ইন্ডিয়ার ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে ভাজ্জির স্পিনের ভেলকি আজও অমলিন। তার পরেও স্পিনের কৌলিন্য বজায় ছিল রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজাদের হাত ধরে। তাঁদের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স বদলে দিয়েছিল বহু ম্যাচের অঙ্ক। অশ্বিন অবসরে। তবে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন জাড্ডু। কিন্তু তাঁর পারফরম্যান্স মনে করাচ্ছে সেই লাইনকে, ‘ভগবান বৃদ্ধ হয়েছেন’। আসলে দোষটা তাঁর নয়। ওয়শিংটন সুন্দরের চোট, কুলদীপের অফ ফর্মের কারণেই ভরসা রাখতে হয়েছে বর্ষীয়ান জাদেজার উপর ।
এটা সত্যি যে, ভারতীয় দলে দক্ষ স্পিনারের অভাব সুস্পষ্ট। না হলে অজ্ঞাতকুলশীল সারাংশ জৈনের অভিষেক হয় ৩৩ বছর বয়সে! নির্বাচকদের এই সিদ্ধান্তে আঁশটে গন্ধ পাওয়া অস্বাভিক নয়। একটা সময় কুল-চা অর্থাৎ কুলদীপ যাদব, যুজবেন্দ্র চাহাল আশার আলো দেখিয়েছিলেন। কিন্তু সীমিত ওভারের ভিড়ে তাঁদের নাভিঃশ্বাস ওঠার উপক্রম। চাহাল আগেই ছিটকে গিয়েছেন। টিম টিম করে সলতে জ্বালিয়ে রেখেছেন কুলদীপ। কিন্তু তাঁর ফর্ম অনিয়মিত। তবুও কুলদীপকে শেষ টেস্টে হঠাৎ বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি। কোচ গম্ভীরের এই হঠকারী সিদ্ধান্ত অবশ্যই দলকে বিপদে ফেলেছে।
দক্ষতা ও যোগ্যতার নিরিখে মানব সুথারই সাম্প্রতিক সময়ের সেরা আবিষ্কার। লম্বা রেসের ঘোড়াও। কিন্তু তিনি একা কী করবেন? কেন আর একটা সুথার উঠে আসবে না ভারতীয় দলে। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ডের স্পিন পরিকল্পনা তাহলে কি এতই ভঙ্গুর? এ তো প্রদীপের নীচে অন্ধকার। একদিকে ক্রিকেটারদের ক্রমাগত চোট পাওয়া, দুর্বল সাপ্লাই লাইন ভারতের টেস্ট দলকে দুর্বল করেছে। তার সঙ্গে সাইরাজ বাহুতুলের মতো স্পিন বোলিং কোচ থাকলে, বেশি কিছু প্রত্যাশা না করাই ভালো।