কলম্বো: চার দিন পর্যন্ত ম্যাচের রাশ ভারতের হাতেই ছিল। কিন্তু পঞ্চম দিনে ‘চীনের প্রাচীর’ হয়ে শুভমান গিলদের মুখের গ্রাস কেড়ে নিলেন সোনাল দিনুশা। তাঁর হার না মানা মানসিকতা এখন ক্রিকেটমহলের হট-টক। অনেকেই হয়তো জেনে অবাক হবেন, একটা সময় এই দিনুশার ব্যাট কেনারই সামর্থ ছিল না। তাঁর দিদি অর্থ ধার করে প্রথম ব্যাট কিনে দিয়েছিলেন। সেখান থেকে ভারতীয় বোলারদের ত্রাস হয়ে ওঠা— দিনুশার উত্থান সত্যিই চমকপ্রদ।
সোনাল দিনুশার কোচ আশান প্রিয়ঞ্জনের কথায়, ‘ছোটোবেলায় সোনাল বাস্কেটবলের দিকে ঝুঁকেছিল। খুব মনোযোগ দিয়ে ট্রেনিং করত। তবে ওর স্কুলের কোচ ফেলিক্স ডায়াস একদিন ওকে ক্রিকেট খেলতে দেখে। ছেলেটার প্রতিভা আন্দাজ করে ক্রিকেট টিমে অন্তর্ভূক্ত করে। তখন দিনুশার কাছে ব্যাট পর্যন্ত ছিল না। পরিবারের অবস্থাও খুব একটা সচ্ছ্বল নয়। ওর দিদি অর্থ ধার করে ভাইকে ব্যাট কিনে দেয়। আর তাতে ভর দিয়েই ক্রিকেটে পথচলা শুরু দিনুশার।’ বাকিটা তো সবারই জানা। ভারতের বিরুদ্ধে ঝলমলে পারফরম্যান্স মেলে ধরেছেন ২৫ বছরের বাঁহাতি ব্যাটার। মাত্র পাঁচ টেস্টের কেরিয়ারে তিনটি সেঞ্চুরি তারই প্রমাণ। আর সবকটিই এসেছে ভারতের বিরুদ্ধে। কলম্বোয় তো দুই ইনিংসেই শতরান হাঁকিয়ে গিলদের জয়ের আশায় জল ঢেলে দেন। কোচ আশানের সংযোজন, ‘এই সিরিজের আগে দিনুশা ফোন করেছিল। জানিয়েছিল, স্পিনের বিরুদ্ধে বিশেষ অনুশীলন করতে চায়। কারণ, ভারতীয় দলে বিভিন্ন ধরনের স্পিনার রয়েছে। সবার বিরুদ্ধে তৈরি থাকাই ছিল ওর লক্ষ্য। তাতে সফল দিনুশা।’