কলম্বো: হাস্যকর ছাড়া আর কী!
কলম্বো: হাস্যকর ছাড়া আর কী!
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্ট হাতের মুঠো থেকে বেরিয়ে গিয়েছে ভারতের। বৃহস্পতিবার শেষদিনে বিপক্ষের টেলএন্ডারদেরও আউট করতে কালঘাম ছুটেছে বোলারদের। সোনাল দিনুশাও প্রাচীর গড়ে তুলেছেন একটা দিক আগলে রেখে। সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবের মাঠে টেস্ট ড্র হওয়ায় জোর ধাক্কা লেগেছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার আশায়। এরপরও টিম ইন্ডিয়ার প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর প্রশংসা করেছেন ভারতীয় দলের লড়াকু মানসিকতার! সোশ্যাল মিডিয়ায় শুক্রবার তিনি পোস্ট করেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে চাই শক্তপোক্ত চরিত্র, ধৈর্য ও মানসিক কাঠিন্য। আর সেটাই দেখিয়েছে আমাদের ছেলেরা। পাশাপাশি অসাধারণ খেলার জন্য প্রশংসা করতে হবে দিনুশারও।’
প্রথম ইনিংসে ১০৩ করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন দিনুশা। এই সিরিজে চার ইনিংসে মোট ৪২০ রান তাঁর। শতরানের সংখ্যা তিনটি। দিনুশার কৃতিত্বকে কুর্নিশ জানিয়েও বলতে হবে, পঞ্চম দিনে শ্রীলঙ্কার শেষ চারটি উইকেট ফেলতে না পারার দায় এড়াতে পারবে না ভারতীয় দল। বোলারদের যেমন নির্বিষ দেখিয়েছে, তেমনই পরিকল্পনার অভাবও প্রকট হয়েছে। ক্যাপ্টেন শুভমান গিলকে দেখিয়েছে অসহায়। কোচ গম্ভীরও বিকল্প স্ট্র্যাটেজির হদিশ দিতে পারেননি। টেস্ট সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিততে না পারায় ক্রিকেটমহলের তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। ভারতীয় দলের প্রাক্তন কোচ রবি শাস্ত্রী তো রীতিমতো খড়গহস্ত। তাঁর মতে, ‘খারাপ লাগলেও বলতে বাধ্য হচ্ছি, ভারত এই টেস্ট জিততে না পারায় আমি অন্তত অবাক নই। ক্রিকেটপ্রেমীরা নিশ্চয়ই দেখতে পেলেন যে, বিরাট কোহলি কেন দেশের সেরা ক্যাপ্টেনদের অন্যতম। ওর সময়ে ভারত ডব্লুটিসি ফাইনালে খেলেছে। শ্রীলঙ্কার মতো দলের বিরুদ্ধে কখনও এমন খোঁড়ায়নি।’ সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘দলের ব্যর্থতার দায় সবসময় কোচকে মাথা পেতে নিতে হয়। আমি গম্ভীরের জায়গায় থাকলে অন্তত তেমনটাই করতাম। শুধু তাই নয়, এটাও আমার জানা যে, দল পারফরম্যান্স করতে না পারলে যে কোনো সময় একজন কোচের চাকরি যেতে পারে। টেস্টে ভারতের সাম্প্রতিক হতাশাজনক ফলের জন্য দায় নিতে হবে কোচ গম্ভীরকেই।’
প্রায় এক সুর আর এক প্রাক্তন ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মঞ্জরেকরের গলায়। তিনি বলেন, ‘এই টেস্ট জেতার জন্য খেলেনি ভারত। ড্রেসিং-রুমে গম্ভীরকে দেখা গিয়েছে হাসি-মশকরা করতে। আর গিল তো টেস্টের শেষ দিনে মাঠের চেয়ে বেশি সময় কাটিয়েছে ড্রেসিং-রুমে। এগুলো দেখে আমার মনে হচ্ছে যে, ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট টেস্ট জেতার জন্য যথেষ্ট সিরিয়াস নয়। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিততে হলে অবিলম্বে গম্ভীর ও গিলকে ছেঁটে ফেলা দরকার।’ প্রাক্তন ওপেনার কৃষ্ণমাচারী শ্রীকান্তও তোপ দেগেছেন। তাঁর মতে, ‘টেস্ট জেতার জন্য গম্ভীরের কোনো পরিকল্পনা ছিল বলে মনে হয় না। গিলের নেতৃত্বও দিশাহীন।’