নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এপ্রিলের শুরুতেই স্কুলগুলিতে আয়োজিত হতে চলেছে প্রথম সামেটিভ মূল্যায়নের লিখিত পর্ব। তবে তার আগে হোলিস্টিক রিপোর্ট কার্ড অনুযায়ী বর্ধিত নম্বরের বিন্যাস (মার্কস ডিস্ট্রিবিউশন) সব বিষয়ে নেই বলে অভিযোগ বেশ কিছু শিক্ষক সংগঠনের। ফলে কোনও অধ্যায় থেকে কত নম্বরের প্রশ্ন করা যাবে, ছোট এবং বড় প্রশ্নের ভাগাভাগি কীভাবে হবে, তা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে তাদের দাবি। একই সঙ্গে ফর্মেটিভ মূল্যায়নে কীভাবে ছাত্রছাত্রীদের নম্বর দেওয়া হবে, তা নিয়েও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না হওয়ায় ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে বলে দাবি শিক্ষকদের।
শিক্ষক সংগঠন এসটিইএ’র নেতা অনিমেষ হালদার বলেন, ‘হোলিস্টিক রিপোর্ট কার্ড অনুযায়ী সামেটিভ মূল্যায়নে প্রতি বিষয়ের নম্বর দ্বিগুণ বেড়ে ৩০ হয়েছে। তবে, কোন অধ্যায় থেকে কত নম্বরের প্রশ্ন দিয়ে তা সাজানো হবে, তা সব বিষয়ের ক্ষেত্রে সরাসরি বলে দেওয়া নেই। আগে এই নম্বর বিভাজন পর্ষদের ওয়েবসাইটেও দেওয়া থাকত। নবম-দশমে এই বিভাজন বইয়ের সঙ্গেই থাকত। তবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিজ্ঞানের বিষয়গুলিতে ৩০ নম্বরের বিভাজন সঠিকভাবেই দেওয়া হয়েছে। কোনও কোনও ক্লাসে বাংলার ক্ষেত্রে তা রয়েছে। আমরা চাই, সব বিষয়েই তা দেওয়া হোক।’ যদিও পর্ষদের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, ‘এ বছর দেওয়া নতুন বইগুলিতে নম্বরের বিভাজন দেওয়া আছে। সিলেবাস এক্সপার্ট কমিটি থেকে সেই বিভাজন করে দেওয়া হয়েছে। কোনও বিষয়ে না থাকলে নম্বর বিভাজন করে দেওয়া হবে।’
এদিকে, হোলিস্টিক রিপোর্ট কার্ডে একজন পড়ুয়ার লেখাপড়া বাদেও সার্বিক ব্যক্তিত্ব, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, গুণাবলি ও খামতির দিকগুলির প্রতিফলন রাখতে বলা হয়েছে শিক্ষকদের। এসব ক্ষেত্রে কীভাবে বিচার করে নম্বর দেওয়া হবে, তা নিয়েও শিক্ষকদের বড় অংশ ধোঁয়াশায়। এনিয়ে কোনও ট্রেনিং তাঁরা এখনও পাননি বলেই দাবি। তবে পর্ষদের সেই আধিকারিক জানান, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি নিয়ে শিলিগুড়িতে একটি সার্বিক সচেতনতা শিবির রয়েছে। আগামী মাসেও কয়েকটি জেলা নিয়ে ১৪ দিনের আবাসিক প্রশিক্ষণ শিবির হবে। রিজিয়ন ভিত্তিক প্রতি জেলা থেকে কিছু বিষয়ভিত্তিক শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এক সঙ্গে সব শিক্ষকের ট্রেনিং সম্ভব নয়। তাহলে পঠনপাঠন বন্ধ করে দিতে হবে। এই প্রশিক্ষণ হয়ে গেলে আর কোনও ধোঁয়াশা থাকবে না বলেই দাবি পর্ষদের।