সংবাদদাতা, বালুরঘাট: একই ব্যক্তি দু’দেশের নাগরিক। রয়েছে দুই দেশের ভোটার কার্ডও। একটি ভারতের, আরেকটি বাংলাদেশের। এমনই বিষয় সামনে আনলেন রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশের মহম্মদ আব্দুর রাজ্জাকই ভারতের ভোটার তালিকায় রাজ্জাক সরকার। ভারতে তার বাড়ি কুমারগঞ্জ ব্লকের সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০১ নম্বর বুথে। যা কাঁটাতারের ওপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থিত। দেশের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের পরিচয়পত্র রয়েছে কেন? তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। সামাজিক মাধ্যমে সুকান্ত এই তথ্য তুলে ধরতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এজন্য বিজেপি সাংসদ শাসকদল তৃণমূলকেই দায়ী করেছেন। পুরো বিষয়টি অবশ্য খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন কুমারগঞ্জের বিডিও শ্রীবাস বিশ্বাস ।
ফোন না তোলায় কাঁটাতারের ওপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে বসবাসকারী ওই ব্যক্তির কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর দাদা হামিদ সরকার বলেন, আমাদের পুরো পরিবার ভারতীয়। ভাইয়ের নাম কী করে বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় এল, জানি না।
রাজ্জার কী করে দুই দেশের নাগরিক হতে পারেন? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুকান্ত বলেন, এ জন্যই কি তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআরের বিরোধিতায় নেমেছেন? সুকান্তর দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং স্বচ্ছ ভোটার তালিকার জন্য এই শনাক্তকরণ অত্যন্ত জরুরী। বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যে এসআইআর হবেই। কেউ আটকাতে পারবে না।
সুকান্তর এই অভিযোগকে আমল দিতে নারাজ তৃণমূল। শাসকদলের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক মফিজুদ্দিন মিয়াঁ বলেন, ওই ব্যক্তির বাড়ি কাঁটাতারের ওপারের গ্রামে। তাঁর শ্বশুরবাড়ি বাংলাদেশে। নিজের বাড়ি ভারতে। তাঁর বাবা একসময় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। অযথা সুকান্তবাবু তৃণমূলের ওপর দায় চাপাচ্ছেন।
তৃণমূল নেতা মফিজুদ্দিনের অভিযোগ, খোঁজ নিলে দেখা যাবে, সুকান্তর বাড়ির আশপাশে বহু বাংলাদেশি আশ্রয় নিয়েছে। দিয়েছে বিজেপিই। নিজস্ব চিত্র