গাজিয়াবাদ, ৯ ফেব্রুয়ারি: গাজিয়াবাদের তিন নাবালিকার আত্মহত্যার ঘটনার তদন্তে নেমে এক অদ্ভূত গোলকধাঁধায় পড়েছে পুলিশ। তিন বোনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা একটি জটিল পারিবারিক বিষয়কে সামনে এনেছে। তদন্তে তাদের পারিবারিক জীবনের জটিলতা এবং আর্থিক সংকট নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য বেরিয়ে আসছে। তদন্ত যতো এগোচ্ছে মৃত নাবালিকাদের বাবার বক্তব্যে ধরা পড়ছে, একের পর এক অসঙ্গতি। বাবার একাধিক বৈবাহিক সম্পর্কের কথা সামনে আসছে। পুলিশের জেরায় জানা গিয়েছে, মৃত মেয়েদের বাবা চেতন কুমারের তিনটি বিয়ে! চেতন স্বীকার করেছেন যে তিনি ২০১০ সালে সুজাতা এবং ২০১৩ সালে হিনাকে বিয়ে করেছিলেন।
পুলিশ এখন নথিপত্রের মাধ্যমে বিয়ের সাল-তারিখ যাচাই করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সেক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে সমস্যা, কারণ সুজাতা ও হিনা উভয়েই পড়াশুনো জানত না এবং তারা বিয়ের তারিখ বা কোনো কাগজপত্র দিতে পারেননি। চেতন পুলিশকে জানিয়েছে ২০১৮ সালে সে গাজিয়াবাদে ক্রেডিট কার্ড পরিষেবা সংক্রান্ত কাজ করত। তখন সে টিনা নামের এক তরুণীকে কাজে নিয়োগ করে। পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং চেতন তাকেও বিয়ে করে! ফলে টিনা তার তৃতীয় স্ত্রী হন।
আরও চমকে দেওয়ার মতো তথ্য সামনে এসেছে। স্ত্রী-মেয়েদের নিয়ে এক ঘরেই থাকত চেতন। প্রশ্ন উঠছে একই ঘরে থাকলেও মেয়েরা যখন মধ্যরাতে আত্মহত্যার জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে যায় তখন কেন কেউ টের পেল না?
বেশ কয়েক বছর আগে আর্থিক কারণে তিন মেয়ের স্কুল ছাড়িয়ে দেয় চেতন। বাড়িতে মেয়েদের সর্বক্ষণের সঙ্গী ছিল ওই মোবাইল ফোন। তদন্তে পুলিশ জেনেছে, মেয়েদের কাছে দুটি মোবাইল ফোন ছিল। ঋণের কারণে চেতন ফোন দুটি বিক্রি করে দেয়, একটি প্রায় ছয় মাস আগে এবং অন্যটি ঘটনার মাত্র ১৫ দিন আগে বিক্রি করে সে। আইইএমআই নম্বর ট্র্যাক করে ফোনগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ।