নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মহিষাদল থানার মধ্যে বিষাক্ত তরল খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় কর্তব্যে গাফিলতির কারণে তিন পুলিস অফিসার ও কর্মীকে সাসপেন্ড করা হল। এক হোমগার্ডকেও বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মহিষাদল থানায় ওই ঘটনা ঘটেছিল। ওই থানার দুই সাব ইন্সপেক্টর অরুণাংশু বর ও দেশবন্ধু বাগ এবং কনস্টেবল মোহিত শীটকে সাসপেন্ড করেছেন পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য। শ্রীকান্ত জানা নামে এক হোমগার্ডকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনায় পুলিস মহলে হইচই পড়ে গিয়েছে। পুলিস সুপার বলেন, গাফিলতির অভিযোগে তিনজনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই রাতে মহিষাদল থানার মছলন্দপুর গ্রামের শেখ আমজাদ শা’কে পুলিস গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানোর আগে মেডিক্যাল চেকআপের জন্য বাসুলিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে থানায় ফিরে আসার পর থেকেই ধৃত ব্যক্তি নাগাড়ে বমি করে। ওই অবস্থায় ফের ধৃতকে বাসুলিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। এখনও সে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে বলা হয়েছে, শৌচাগার পরিষ্কার করার কেমিক্যাল খেয়েছে আমজাদ। থানার মধ্যে অভিযুক্ত কীভাবে ওই বিষাক্ত তরল পেল তানিয়ে তদন্ত শুরু হয়। একজন ডিএসপি পদমর্যাদার অফিসারের নেতৃত্বে তদন্তের পর তাঁর রিপোর্টের ভিত্তিতে দুই সাব ইন্সপেক্টর সহ তিনজনকে সাসপেন্ড করা হয়।
জানা গিয়েছে, গত ১১জুলাই আমজাদের পুত্রবধূ মঞ্জিলা খাতুনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। ওই যুবতীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় আমজাদ সহ তার পরিবারের মোট ন’জন সদস্যের বিরুদ্ধে ১১তারিখ থানায় এফআইআর হয়। মৃতার বাড়ির লোকজন আমজাদকে বেধড়ক মারধর করে বলেও অভিযোগ। তার পরিবারের অন্য সদস্যরা আপাতত ঘরছাড়া। পুলিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আমজাদকে গ্রেপ্তার করে। আত্মহত্যার জন্য থানার ভিতর থাকা তরল বিষাক্ত পান করে নেয় আমজাদ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।থানা হেফাজতে থাকাকালীন এই ঘটনায় পুলিস অস্বস্তিতে পড়ে। এই ঘটনায় মহিষাদল থানার পুলিসের গাফিলতি স্পষ্ট। তাই গাফিলতির অভিযোগে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আমজাদের প্রতিবেশী রাহাতন বেওয়া বলেন, আমজাদ থানায় বিষাক্ত তরল খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় মহিষাদল থেকে তমলুকে নিয়ে যাওয়া হয়। আপাতত সেখানেই চিকিৎসাধীন। থানার মধ্যে কীভাবে বিষাক্ত তরল পেল সেটাই প্রত্যেককে ভাবাচ্ছে।