সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ছোট নাতির সঙ্গে খেলতে গিয়ে বাঁশি খেয়ে ফেলেছিলেন দাদু। পুতুলের তলায় থাকা ছোট্ট সেই বাঁশি শ্বাসনালিতে আটকে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েছিলেন কিশানগঞ্জের ৫৫ বছর বয়সের মহম্মদ নুর আলম। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের ডাক্তারদের হাতযশে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন মহম্মদ নুর আলম।
শুক্রবার রাত ১১টা নাগাদ কিশানগঞ্জ থেকে তাঁকে মেডিকেলে এনে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের প্রধান ডাঃ রাধেশ্যাম মাহাত বলেন, নুর আলমকে যখন আমরা পাই তখন তাঁর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা অনেকটাই নেমে গিয়েছিল। শ্বাস নিতে গেলে তাঁর মুখ দিয়ে বাঁশির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। সঙ্গে সঙ্গে স্ক্যান করে আমরা বাঁশিটি চিহ্নিত করি। শনিবার তাঁর সফল অস্ত্রোপচার করে সেই বাঁশিটি বের করে আনা হয়েছে। বাঁ দিকের ব্রঙ্কাসে বাঁশিটি আটকে ছিল। যা বের করা খুব কঠিন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সব ডাক্তারদের সহযোগিতায় অস্ত্রোপচার সফল হয়। ব্রঙ্কোস্কপি করে সেই বাঁশি আমরা বের করতে পেরেছি। খুশি পরিবারের লোকেরাও। বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করাতে গেলে লক্ষাধিক টাকা খরচ হতো।
এই সফল অস্ত্রোপচারে ডাঃ রাধেশ্যাম মাহাতর সঙ্গে ছিলেন ডাঃ পার্থ প্রতিম সাহা, ডাঃ শেখ আজহারউদ্দিন, ডাঃ সন্দীপ মণ্ডল, ডাঃ অভিজিৎ সরকার, ডাঃ পৌলোমী সাহা। অ্যানাসথেসিস্ট ছিলেন ডাঃ সুভাষ সরকার এবং ডাঃ অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়।
উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি বিভগে এর আগেও এধরনের জটিল অস্ত্রোপচার করে বহু শিশু ও পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির প্রাণ রক্ষা হয়েছে। কারও গলায় পাহাড়ের পানীয় জল থেকে শ্বাসনালিতে জোঁক আটকে গিয়েছিল, কারও মাংস খেতে গিয়ে মাংসের হাড় আটকেছিল, মুড়ি খেতে মুড়ির কাঠি কারও বা হিজাবের পিন আটকে গিয়েছিল। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই সফল অস্ত্রোপচার করে প্রত্যেকের প্রাণ রক্ষা করা হয়েছে। এই বাঁশিটি শ্বাসনালী থেকে বের করা হয়েছে।