বিদ্যুৎকান্তি বর্মন, ফালাকাটা: চলতি মরশুমে আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকে প্রথমবারের মতো চিরাচরিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে পয়রা পদ্ধতিতে মটরশুঁটি চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন একাংশ চাষি। শীতকালীন সবজির মধ্যে মটরশুঁটি অন্যতম জনপ্রিয় ও লাভজনক ফসল। ফলে এবছর কম খরচে বেশি লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। পয়রা পদ্ধতি পরিবেশবান্ধব হওয়ায় কৃষিদপ্তরও চাষিদের এ ব্যাপারে উৎসাহ দিচ্ছে।
আলিপুরদুয়ার মহকুমার সহ কৃষি অধিকর্তা রজত চট্টোপাধ্যায় বলেন, পয়রা পদ্ধতিতে ধান কাটার প্রায় ১৫ দিন আগে ধান খেতেই মটরশুঁটির বীজ ছিটিয়ে দেওয়া হয়। ফলে জমি আলাদা করে চাষ দিতে হয় না। তাছাড়া অতিরিক্ত সার বা সেচের প্রয়োজনও পড়ে না। ধানের জমিতে থাকা অবশিষ্ট আর্দ্রতা ও পুষ্টি উপাদানেই মটরশুঁটির গাছ ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। এতে যেমন উৎপাদন খরচ কমে, তেমনই জমিতে ধানের নাড়া পোড়ানোর প্রবণতাও হ্রাস পায়। যা পরিবেশরক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
এই পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলকভাবে ফালাকাটার উমাচরণপুর, বংশীধরপুর ও রাইচেঙ্গা গ্রামে চাষ হচ্ছে। রাইচেঙ্গা গ্রামের চাষি চঞ্চল শীল বলেন, সাধারণত এক বিঘা জমিতে মটরশুঁটি চাষ করতে প্রায় ছ’হাজার টাকা খরচ হলেও পয়রা পদ্ধতিতে আমার খরচ হয়েছে মাত্র দুই হাজার টাকার মতো। গাছের বৃদ্ধি ভালো হওয়ায় লাভের আশা করছি। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান উমাচরণপুরের চাষি অনন্ত রায়। তিনি বলেন, কৃষিদপ্তরের সহযোগিতায় দুই বিঘা জমিতে পয়রা পদ্ধতিতে মটরশুঁটি চাষ করেছি। আগামী দিনেও এই পদ্ধতিতেই চাষ চালিয়ে যেতে চাই।
চাষিদের একাংশের মতে, এক বিঘা জমির মটরশুঁটি গড়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয় এবং এটি মাত্র দু’মাসের ফসল। স্বাভাবিক পদ্ধতির তুলনায় পয়রা পদ্ধতিতে খরচ অর্ধেকেরও কম হওয়ায় লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি। চলতি বছরে ধান কাটা হয়ে যাওয়ায় অনেক চাষি এই সুযোগ পাননি। তবে আগামী মরশুমে ফালাকাটায় পয়রা পদ্ধতিতে মটরশুঁটি চাষের পরিধি আরও বাড়বে বলেই আশাবাদী কৃষিদপ্তর।
• নিজস্ব চিত্র।