নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রাজ্যে পালবদলের পর থেকেই পদ্মের দলীয় বিধায়কদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট হয়েছে। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিধায়কদের পারস্পরিক ‘দ্বন্দ্বে’-র খবর উঠে এসেছে। যা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে রাজ্য সরকারকে। তবে এসবের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার কঠোর মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার নবান্নে মূলত শিল্পাঞ্চলের বিধায়কদের ‘ক্লাস’ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা, পুজোর সময়ে তাঁর উদ্বোধনে যাওয়া নিয়ে সাময়িক আলোচনা হলেও আলোচনার সিংহভাগ জুড়েই ছিল বিধায়কদের ইগো ও দ্বন্দের অভিযোগ। পোড় খাওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় নিজস্ব খবরের ‘সোর্স’ রয়েছে। তেমনই পুলিশ থেকে প্রশাসন সর্ব স্তর থেকেই শিল্পাঞ্চলের প্রত্যেক বিধানসভা এলাকার রিপোর্ট তাঁর কাছে পৌঁছেছে। তাতে বড়ো আকারের সমস্যা হিসাবে উঠে এসেছে শিল্পাঞ্চলের প্রভাবশালী এমএলএদের ইগোর লড়াই। সূত্রের খবর, এই আবহে এক গুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রথমত তিনি বলেন, বিধায়করা নিজের এলাকার বাইরের কোনো কাজে হস্তক্ষেপ করবেন না। অন্যের এলাকায় গিয়ে মাতব্বরি করা চলবে না। অন্যের এলাকায় সামাজিক অনুষ্ঠানে গেলেও স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই চলতে হবে। ক্লাব, সংগঠনের নাম করে অন্যের এলাকায় গিয়ে ছড়ি ঘোরানোর দিন শেষ। দ্বিতীয়ত, মন্ত্রী বিভিন্ন বিধানসভায় নিজের দপ্তরের কাজে যেতেই পারেন। সেক্ষেত্রেও স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে সমন্বয় রাখতে হবে তাঁকে। স্থানীয় বিধায়ককে ব্রাত্য রাখা যাবে না। তৃতীয়ত, এমন কোনো পদক্ষেপ বা প্রভাব দেখানো চলবে না যেখানে প্রশাসন বিভ্রান্ত হয়। বিধায়কদের নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রেখে চলতে হবে। এদিনের বৈঠকে বিধায়কদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিজেপি জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য।



