Bartaman Logo
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অন্যের এলাকায় গিয়ে মাতব্বরি নয়, বিধায়কদের স্পষ্ট জানালেন শুভেন্দু

রাজ্যে পালবদলের পর থেকেই পদ্মের দলীয় বিধায়কদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট হয়েছে। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিধায়কদের পারস্পরিক ‘দ্বন্দ্বে’-র খবর উঠে এসেছে।

অন্যের এলাকায় গিয়ে মাতব্বরি নয়, বিধায়কদের স্পষ্ট জানালেন শুভেন্দু
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রাজ্যে পালবদলের পর থেকেই পদ্মের দলীয় বিধায়কদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট হয়েছে। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিধায়কদের  পারস্পরিক ‘দ্বন্দ্বে’-র খবর উঠে এসেছে। যা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে রাজ্য সরকারকে। তবে এসবের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার কঠোর মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার নবান্নে মূলত শিল্পাঞ্চলের বিধায়কদের ‘ক্লাস’ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা, পুজোর সময়ে তাঁর উদ্বোধনে যাওয়া নিয়ে সাময়িক আলোচনা হলেও আলোচনার সিংহভাগ জুড়েই ছিল বিধায়কদের ইগো ও দ্বন্দের অভিযোগ। পোড় খাওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় নিজস্ব খবরের ‘সোর্স’ রয়েছে। তেমনই পুলিশ থেকে প্রশাসন সর্ব স্তর থেকেই শিল্পাঞ্চলের প্রত্যেক বিধানসভা এলাকার রিপোর্ট তাঁর কাছে পৌঁছেছে। তাতে বড়ো আকারের সমস্যা হিসাবে উঠে এসেছে শিল্পাঞ্চলের প্রভাবশালী এমএলএদের ইগোর লড়াই। সূত্রের খবর, এই আবহে এক গুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রথমত তিনি বলেন, বিধায়করা নিজের এলাকার বাইরের কোনো কাজে হস্তক্ষেপ করবেন না। অ঩঩঩ন্যের এলাকায় গিয়ে মাতব্বরি  করা চলবে না। অ঩ন্যের এলাকায় সামাজিক অনুষ্ঠানে গেলেও স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই চলতে হবে। ক্লাব, সংগঠনের নাম করে অন্যের এলাকায় গিয়ে ছড়ি ঘোরানোর দিন শেষ। দ্বিতীয়ত, মন্ত্রী বিভিন্ন বিধানসভায় নিজের দপ্তরের কাজে যেতেই পারেন। সেক্ষেত্রেও স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে সমন্বয় রাখতে হবে তাঁকে। স্থানীয় বিধায়ককে ব্রাত্য রাখা যাবে না। তৃতীয়ত, এমন কোনো পদক্ষেপ বা প্রভাব দেখানো চলবে না যেখানে প্রশাসন বিভ্রান্ত হয়। বিধায়কদের নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রেখে চলতে হবে। এদিনের বৈঠকে বিধায়কদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিজেপি জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য।  

Advertisement

জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে খবর পৌঁছেছে আসানসোল সাংগঠনিক জেলার এক বিজেপির জেলা স্তরের নেতার বিরুদ্ধে বেনিয়ম, প্রশাসনের কাজে অধিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়টি নিয়েও তিনি সতর্ক করে দেন দলীয় কর্মীদের। 
বিজেপি সূত্রে খরব, আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘ঠান্ডা লড়াই’ এখন বিজেপির অন্দরে ও প্রশাসনিক স্তরের চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি মাইথনে বিজেপির জেলা কোর কমিটির বৈঠকে দুই বিধায়কের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছিল। দু’পক্ষ‌ই ঩নিজের বিধানসভা এলাকায় অন্যের হস্তক্ষেপের অভিযোগ আনেন। দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ে সঙ্গে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ু‌ই঩য়ের ছায়াযুদ্ধ নিয়েও নবান্নের বৈঠকে আলোচনা হয়। সেখানে মূল সমস্যা কারখানাগুলিতে নিয়োগ নিয়ে। একটি শ্রমিক সংগঠনকে সামনে রেখে আগে কর্মরত মানুষকে বের করে দিয়ে এক বিধায়ক নিজের পছন্দের লোক ঢোকাচ্ছেন বলেও অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী জানান, শীঘ্রই তিনি জেলা সফর করবেন। সেখানে প্রশাসনকে নিয়ে নিয়োগের সুনির্দিষ্ট নীতি হবে। প্রশাসন বিধায়কদের সঠিক মর্যাদা দিচ্ছেন কিনা সেটিরও রিভিউ করবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ