নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: সুবর্ণরেখা নদীর জলে সূর্যের আলো এসে পড়লে চিকচিক করে। সোনালী বালুতটে জলরেখা যেন নক্সা কাটে। নয়াগ্ৰাম ছুঁয়ে বয়ে গিয়েছে সুবর্ণরেখা। ডাহি এলাকায় এবার নদীবক্ষে ভ্রমণ করা যাবে। জলের উপর হাউসবোটে রাত্রিযাপন করতে পারবেন পর্যটকরা। সুবর্ণরেখা নদীকে কেন্দ্র করে ইকো ওয়াটার ট্যুরিজমের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পর্যটনের প্রসারে পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ করা হচ্ছে ঝাড়গ্রামের নয়াগ্রামে। নয়াগ্ৰাম পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রুপা বেরা বলেন, সুবর্ণরেখা নদী তীরবর্তী ডাহি এলাকায়’ইকো ওয়াটার ট্যুরিজম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পর্যটকরা এখানে নদীর উপর নৌকাবিহার করতে পারবেন।হাউসবোটে দিনে ও রাতে থাকতে পারবেন।প্রাথমিক পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।
জেলার দক্ষিণে নয়াগ্ৰামকে কেন্দ্র করে পর্যটন প্রসারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।নয়াগ্ৰামের জঙ্গলে চিতল হরিণের দেখা মেলে। রামেশর, তপোবন ও কালুয়াষাঁড়ের মন্দির কাছেই।নয়াগ্ৰামের ডাহি এলাকায় রয়েছে পর্যটন পার্ক। ডাহির নদীর তীরে এবার কাশ্মীরের ডাল লেকের মতো শিকারা বা হাউসবোট দেখা যাবে। পর্যটকরা নদীর উপর হাউসবোটে রাত্রিবাস করতে পারবেন। জেলা পঞ্চায়েত সমিতির তরফ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নদী বক্ষে হাউসবোট নামানোর পরীক্ষাও শুরু হয়েছে।নদীর স্রোতের বিদ্যুৎ থেকে হাউসবোটগুলির বিদ্যুতায়ন হবে।
নয়াগ্ৰামে এই ইকো ওয়াটার টুরিজম স্থানীয় বেকার যুবক, যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। নদীর জলের উপর ওয়াটার সাইক্লিং, কায়াকিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। সুবর্ণরেখা নদীতে পর্যটকদের নিয়ে ইতিমধ্যেই প্যাডেল বোট ভ্রমণ শুরু হয়েছে। নৌকাবিহারে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।নদীর জলের স্রোত থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতে বোটগুলির ইঞ্জিন চলবে। হাউসবোটে থাকবে বায়ো টয়লেটও ডাস্টবিন।
ঝাড়গ্রাম হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, জেলার বন্যপ্রাণী অধ্যুষিত শাল, পিয়ালের জঙ্গল, পাহাড় ও প্রাচীন রাজবাড়ি দেখতে পর্যটকরা এমনিতেই ভিড় জমান। এবার ইকো ওয়াটার ট্যুরিজমের আনন্দ নিতেও পর্যটকরা আসবেন ঝাড়গ্রামে।