সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: হাসপাতালের ছাদ থেকে চাঙড় খসে পড়ছে। জানালায় নেই পাল্লা। ফলে বর্ষায় বৃষ্টি পড়লেই জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়ছে জল। ওষুধপত্র রক্ষা করার জন্য ফ্রিজের ওপর প্লাস্টিকের মোড়ক দেওয়া হয়েছে। স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে জীবনকে বাজি রেখে চলছে পরিষেবা। সাঁতুড়ি ব্লকের সাঁতুড়ি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এমনই বেহাল দশা। এই পরিস্থিতির জন্য উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র আসা রোগী থেকে শুরু করে এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
পুরুলিয়া জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশোক বিশ্বাস বলেন, জেলার প্রায় ৮০ শতাংশ প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলির ভবনের অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য ভবনে জানানো হয়েছে। একসঙ্গে সব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংস্কার সম্ভব নয়। যেমন টাকা আসছে সেইভাবে কাজ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাম আমলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে সাঁতুড়িতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। আউটডোর এবং ইনডোর উভয় পরিষেবা চালু করা হয়। ওই চত্বরে আউটডোর ভবনের মধ্যে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য একটি ঘর বরাদ্দ করা হয়। বর্তমানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আউটডোর পরিষেবার জন্য বরাদ্দ ভবনটি পুরো ভেঙে গিয়েছে। কয়েক বছর আগে ইনডোর পরিষেবাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখন সেই ইনডোর ভবনে আউটডোর পরিষেবা চলছে। কিন্তু ইনডোর ভবনে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য কোনও ঘর না থাকায় ভগ্ন আউটডোর ভবনেই পরিষেবা চলছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা ঝুঁকি নিয়েই সেই ভাঙা বাড়িতেই পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দুইজন এএনএম এবং পাঁচজন আশাকর্মী রয়েছেন। সাঁতুড়ি, শালবেড়িয়া, ঢেঁকশিলা প্রভৃতি এলাকার মানুষ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিষেবা পেয়ে থাকেন। মূলত গর্ভবতী মহিলাদের চিকিৎসা, শিশুদের টিকাকরণ সহ বিভিন্ন পরিষেবা এবং ওষুধপত্র দেওয়া হয়।
বৃষ্টি হলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘরের মেঝে ভিজে যায়। এই সময় পিছলে পড়তে পারেন রোগীরা বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা ও শিশুরা। তার উপর আবার সিলিং থেকে চাঙড় খসে মাথায় পড়তে পারে। এক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, ঘরের মধ্যে পুরো জল ঢুকে যায়। যার ফলে বৈদ্যুতিক লাইনে সমস্যা হয়। কোনওরকমে তার ঝুলিয়ে আলো জ্বালিয়ে রাখা হয়। অসুবিধার কথা সর্বত্র জানানো হয়েছে। কোনও কাজ হয়নি। আপাতত সরকারের তরফ থেকে আমাদের যদি একটি কমিউনিটির হল করে দেওয়া হয়, তাহলে অন্তত সুষ্ঠুভাবে স্বাস্থ্য পরিষেবা চালাতে পারব।সাঁতুড়ি ব্লকের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অনিরুদ্ধ গোস্বামী বলেন, রাজ্য সরকার স্বাস্থ্যসাথী এনেছে। কিন্তু মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা ভালোভাবে পাচ্ছেন না। এক সময় সাঁতুড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আউটডোর, ইনডোর উভয়ে পরিষেবা পাওয়া যেত। সাঁতুড়ি, গড়শিকা ,টাড়াবাড়ির কিছু পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ পরিষেবা পেতেন। এখন কোনও রোগীকে ভর্তি করতে হলে ১০ কিলোমিটার দূরে মুরাডি অথবা ২০ কিলোমিটার দূরে রঘুনাথপুর নয়তো ৪৫ কিলোমিটার দূরে বাঁকুড়ায় ছুটতে হয়। ভবনের অবস্থা বেহাল। যেকোনও সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। সাঁতুড়ি ব্লকের বিডিও পার্থ দাস বলেন, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সংস্কারের জন্য আলোচনা করা হয়েছে। আপাতত সাময়িক কিভাবে অসুবিধা দূর করা যায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র