নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: শুধু সাইনবোর্ডের রং আর কমিটির নামে সামান্য অদলবদলের জেরেই থমকে গিয়েছে সরকারি আদেশনামা। মজার কথা, রাজ্যে পালাবদলের পর জারি হওয়া ওই আদেশনামা কার্যকর না হওয়ায় ক্ষুব্ধ গেরুয়া পার্টির একাংশ। হুগলির বলাগড় ব্লকের গুপ্তিপাড়া-১ পঞ্চায়েতের টোটো চালকদের অফিসকে কেন্দ্র করে নব্য ও পুরানো বিজেপির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযোগ, গুপ্তিপাড়ায় টোটো চালকদের ওই অফিসটি আসলে ফেরিঘাটের যাত্রীদের বসার জায়গা। কিন্তু বহুদিন ধরেই সেটি দখল করে রেখেছে টোটা চালকদের ইউনিয়ন। গত ১৬ জুন এনিয়ে ব্লক প্রশাসন নোটিস করে ওই জায়গা খালি করতে বলে। বিষয়টি দেখার জন্য পঞ্চায়েতের কর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
কিন্তু প্রায় দু’মাসেও সেই জায়গা খালি হয়নি। অভিযোগ, নোটিস পাওয়ার পর টোটোচালকরা অফিসের চাবি পঞ্চায়েতকে দিয়েও ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে। কারণ, ততক্ষণে তাঁদের কমিটি বদলে গিয়েছে। নীল-সাদা থেকে গেরুয়া-সাদা হয়েছিল সাইনবোর্ড। আর টোটো ইউনিয়ন থেকে কমিটির নাম হয়ে গিয়েছে টোটো পরিষেবা কমিটি। জানা গিয়েছে, আদি বিজেপির নেতৃত্ব ওই যাত্রী নিবাসকে আগের অবস্থায় ফেরাতে সওয়াল করেছিলেন। ফলে, বিষয়টি তাঁদের কাছে এখন সম্মানের লড়াই হয়ে উঠেছে। মাঝে বসে মজা দেখছে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত।
গুপ্তিপাড়া ১ নম্বর পঞ্চায়েতের সদস্য তথা বিজেপি নেত্রী আশা ঘোষ হালদার বলেন, টোটোচালকদের ভিড়ে মহিলা যাত্রীরা ওই যাত্রী নিবাসকে ব্যবহারই করতে পারেন না। আমরা সেটিকে যাত্রীদের ব্যবহারের বন্দোবস্ত করতে চেয়েছিলাম। ব্লক থেকে পঞ্চায়েতকে নোটিস করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাজ হয়নি। টোটোচালক সংগঠনের সভাপতি নারায়ণ দাস বলেন, ওই জায়গা ইটভাটার। আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারপর ফের ওই জায়গা ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছি। আমরা আগাগোড়ো টোটো পরিষেবা কমিটি ছিলাম। মাঝে নামটি সাইনবোর্ডে ভুল করে লেখা হয়েছিল। আগে সাইনবোর্ডে নীলের উপরে সাদা দিয়ে কমিটির নাম লেখা ছিল। এখন গেরুয়ার উপরে সাদা হরফে লেখা। মাস দু’য়েক আগে কমিটি বদল হয়েছে। সব দলের লোকই এই কমিটিতে আছে। আমাদের রাজনীতি করলে চলে না। বিজেপির গুপ্তিপাড়ার শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ প্রণব ঘোষ বলেন, হঠাৎ বিজেপি হয়ে যাওয়া মানুষজনই এখন দলের কোনো কোনো নেতার কাছের মানুষ হয়ে উঠেছে। আমরা ব্রাত্য হয়ে গয়েছি। তবে লড়াই করে বেঁচে আছি। ওই অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে। গুপ্তিপাড়া ১ নম্বর পঞ্চায়েতের প্রধান অলোকা দাস বলেন, প্রশাসন নোটিস করার সময় আমাকে জানায়নি। এখন বিবাদ হয়েছে। সবপক্ষকে নিয়ে বসা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই টোটো ইউনিয়নের অধীনে প্রায় দু’শো টোটো চলে। বিপুল টাকা চাঁদা তোলা হয়। পাশাপাশি, যাত্রী নিবাসটি বাম আমলে তৈরি হয়েছিল। পরে তৃণমূল আমলে সেটি টোটোচালকদের অফিস হয়েছিল। রাজ্যে পালাবদলের পরে সেটি নিয়েই নতুন পালা জমে উঠেছে।