নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: স্মার্ট সিটি নিউটাউন। বহুতলের সংখ্যা কয়েক হাজার। এখনও তৈরি হচ্ছে প্রতিদিন। বাড়ছে জনসংখ্যা। আসছে রাজ্যের বাইরের বহু মানুষ। নিউটাউনের একাধিক রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং ও বহুতলে চলছে গেস্ট হাউস। হোটেলের আদলে সেগুলি ভাড়া দিচ্ছেন মালিকরা। অথচ এই ধরনের অসংখ্য গেস্ট হাউসের কোনো অনুমতিই নেই। বেআইনিভাবেই সেগুলি চলছে। সম্প্রতি সরেজমিনে পরিদর্শনের পর এমন তথ্য হাতে এসেছে নিউটাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এনকেডিএ) কর্তৃপক্ষের। প্রায় ১১টি বেআইনি গেস্ট হাউস বন্ধ করার জন্য মালিকদের নোটিস দিয়েছে এনকেডিএ।
জানা গিয়েছে, রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিংয়ে কত শতাংশ নন রেসিডেন্সিয়াল কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে, তার নির্দিষ্ট গাইডলাইন রয়েছে। তবে সবচেয়ে প্রথম এনকেডিএ’র কাছে অনুমতি নিতে হবে। সেই অনুমতি পেলে তারপরই বাণিজ্যিক কিছু করা সম্ভব। তবে অনুমতি না পেলে করা যাবে না। কলকাতার বড়বাজারে অগ্নিকাণ্ডের পর রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিংয়ে বাণিজ্যিক কাজের বিষয় নিয়ে অভিযান শুরু হয়েছিল। অনেকগুলি বাণিজ্যিক কাজকর্ম বন্ধ করা হয়েছিল। সম্প্রতি শহরের নিরাপত্তা, নাগরিকদের সুরক্ষা এবং বেআইনি কাজকর্ম রুখতে এনকেডিএ কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। তাতে ওই গেস্ট হাউসগুলির খোঁজ মিলেছে। তারপরই গত দু’সপ্তাহে ১১টি গেস্ট হাউস বন্ধ করার নোটিস দেওয়া হয়েছে। এনকেডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৭ জুলাই নিউটাউনের ‘অ্যাকশন এরিয়া-১ এ’ এর মধ্যে রয়েছে ৫টি, ‘অ্যাকশন এরিয়া-২বি’র মধ্যে তিনটি এবং ‘অ্যাকশন এরিয়া-১ডি’তে একটি এবং ‘অ্যাকশন এরিয়া-১সি’তে একটি গেস্ট হাউস মিলিয়ে মোট ১০টি বন্ধ করার নোটিস দেওয়া হয়েছে। ১২ আগস্ট ‘অ্যাকশন এরিয়া-২বি’তে আরও একটি গেস্ট হাউস বন্ধ করার নোটিস দেওয়া হয়েছে। এনকেডিএ’র দাবি, অনুমতিহীন অবস্থায় সবগুলি চলছিল। তাছাড়া গিয়ে দেখা গিয়েছে, কারও ফায়ার লাইসেন্সও নেই। অর্থাৎ কোনো ধরনের বিপদ হলে প্রাথমিক সুরক্ষাটুকুও নেই।
শুধু গেস্ট হাউস নয়। নিউটাউনের ‘অ্যাকশন এরিয়া-২বি’তে এনকেডিএ’র অনুমতি ছাড়াই রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিংয়ে একটি ছোটোদের স্কুল চলছিল। সেখানেও ফায়ার লাইসেন্সও নেই। ১২ আগস্ট ওই অনুমতিহীন স্কুলটি বন্ধ করার নোটিস দেওয়া হয়েছে। এনকেডিএ কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো ধরনের অন্যায় এবং বেআইনি কাজ বরদাস্ত করা হবে। এই ধরনের অভিযান জারি থাকবে।