নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরে ফের তরুণীর সঙ্গে ডেটিংয়ে গিয়ে তোলাবাজি চক্রের শিকার এক যুবক। পানশালায় বাড়তি বিল দিতে নারাজ হওয়ায় তাঁর ডেবিট কার্ড ছিনিয়ে ৪৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠল। অভিযোগের ভিত্তিতে পানশালার মালিক সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি একটি ডেটিং সাইটে লগ ইন করেন দক্ষিণ কলকাতার এক যুবক। সেখানেই এক মহিলার সঙ্গে আলাপ হয় তাঁর। গত সাতদিন ধরে দু’জনের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ভিডিও কল চলে। বুধবার ওই যুবককে রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকায় সাদার্ন অ্যাভিনিউর একটি পানশালায় ডাকেন তরুণী। সন্ধ্যায় সেখানে যান যুবক। সেখানে দু’জনেই হুক্কা সহ বিভিন্ন খাবার খান। এরপরেই বিল দিতেই গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় যুবকের। পানশালার তরফে ৪৬ হাজার টাকার বিল ধরানো হয় তাঁকে। প্রতিবাদ করেন যুবক। তিনি বলেন, এত টাকা বিল হওয়ার মতো খাওয়াদাওয়া তাঁরা করেননি।
এরপরেই পানশালা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বচসা বাঁধে যুবকের। সুযোগ বুঝে পানশালা থেকে চম্পট দেন তরুণী। তিনিও এই তোলাবাজি চক্রের সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ, বাদানুবাদের মধ্যে কেড়ে নেওয়া হয় যুবকের ডেবিট কার্ড সহ মানিব্যাগ। জোর করে পিন জেনে ৪৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলেও অভিযোগ। এরপরে মারধর করা হয় যুবককে। তিনি সটান রবীন্দ্র সরোবর থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। এরপরেই সেই পানশালায় হানা দেয় পুলিশ। পানশালার মালিক যশরাজ সিং, ম্যানেজার অর্ণব ঘোষ ও এক বাউন্সারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ডেটিং অ্যাপ ও পানশালার মধ্যে যোগসাজশ রয়েছে। যুবকদের প্রলোভন দেখিয়ে নির্দিষ্টভাবে ওই পানশালাতেই ডাকেন ডেটিং অ্যাপের সঙ্গে জড়িত তরুণীরা। এরপরে খাওয়া দাওয়ার নাম করে মোটা টাকা ভুয়ো বিল তুলে ভয় দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়। একটি বড়সড় চক্র এই কাজ চালায়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, পানশালার মালিকই এই ডেটিং অ্যাপটি চালান। তবে বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ বলে জানিয়েছে পুলিশ। উল্লেখ্য, বছর খানেক আগে যোধপুর পার্কের একটি পানশালাতেও একই ঘটনা ঘটে। সেখানেও ডেটিংয়ের ফাঁদে এক যুবককে ডেকে পানশালায় ৬৫ হাজার টাকার বিল ধরানো হয়েছিল। না দিলে যুবককে আটকে রেখে মারধর করা হয়েছিল।