Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাটোয়া কলেজের অধ্যাপকদের ভুলে ‘ফেল’ করা পড়ুয়ারা পাশ

ভালো পরীক্ষা দিয়েও একের পর এক পড়ুয়া ফেল। ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ষষ্ঠ সেমেস্টারের তিনটি পেপারে এমন ফল হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন কাটোয়া কলেজের পড়ুয়ারা৷

কাটোয়া কলেজের অধ্যাপকদের ভুলে ‘ফেল’ করা পড়ুয়ারা পাশ
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: ভালো পরীক্ষা দিয়েও একের পর এক পড়ুয়া ফেল। ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ষষ্ঠ সেমেস্টারের তিনটি পেপারে এমন ফল হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন কাটোয়া কলেজের পড়ুয়ারা৷ বিভাগীয় অধ্যাপকদের ভুলেই এমনটা ঘটেছিল৷ মার্কশিট সংশোধন করার দাবি তোলা হয়েছিল৷ মঙ্গলবার কাটোয়া কলেজের ৯২ জন পড়ুয়াকে সংশোধিত মার্কশিট তুলে দেওয়া হল। দেখা গিয়েছে, ফেল করা পড়ুয়ারা পাশ করেছেন ভালো নম্বর পেয়ে। এবার এমএ স্তরে ভর্তির আর কোনও জটিলতা রইল না পড়ুয়াদের। 

Advertisement

কাটোয়া কলেজের অধ্যক্ষ নির্মলেন্দু সরকার বলেন, ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের ভুলে ৯২ জন ছাত্রছাত্রীর এমএ কোর্সে ভর্তি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। আমরা ভীষণ উদ্বেগে ছিলাম। আমাদের কলেজ পরিচালন কমিটি রেজ্যুলিউশন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিলাম। পড়ুয়াদের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাতে সাড়া দিয়েছেন। ভীষণ ভালো রেজাল্ট হয়েছে ওই ৯২ জনের। আশা করছি অধিকাংশই এমএ তে ভর্তির সুযোগ পাবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুলাই বিএস অনার্স স্তরে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় তাদের পোর্টালে ফল প্রকাশ করে৷ সেখানে দেখা গিয়েছে কাটোয়া কলেজের ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মোট ৯২ জন পড়ুয়াকে ফেল দেখানো হয়েছে৷ ইতিহাস বিভাগে মোট ৫২ জন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৪০ জন পড়ুয়া রয়েছে৷ ইতিহাসে সিসি-১৩ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সিসি-১৪, ডিএসই-৩ পেপারে ফেল দেখানো হয়েছে৷ জানা গিয়েছে, বিভাগীয় অধ্যাপকরা পড়ুয়াদের ইন্টারনাল পরীক্ষার ফল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পোর্টালে তোলেননি৷ যার ফলে পড়ুয়াদের ভবিষ্যত নষ্ট হয়ে যেতে বসেছিল৷ এ নিয়ে একাধিকবার পড়ুয়ারা কলেজের অধ্যক্ষকে ঘেরাও করেছিলেন৷ পরে কলেজ পরিচালন সমিতির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধ্যাপকদের শোকজ করা হবে৷ 
অধ্যক্ষ আরও বলেন, যে তিনজন শিক্ষকের ভুলে ওই ৯২ ছাত্রছাত্রীর নম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের পোর্টালে তোলা হয়নি পরিচালন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা তাদের শোকজ করছি। তাঁরা নিজেদের দায়িত্বপালন কেন করেননি, তার জবাবদিহি চাওয়া হবে। সরকার আমাদের বেতন দেয় কাজ করার জন্য। কাজে অবহেলা রেয়াত করা যায় না।
এদিন পড়ুয়ারা বলেন, এদিনটাই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএ কোর্সে ভর্তির আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল৷ তাই কোনওরকমে বেঁচে গেলাম৷ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গিয়েছে৷ ভবিষ্যতে এরকমটা যাতে না ঘটে, তারজন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ আরও সক্রিয় হোক৷ - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ