সংবাদদাতা মানিকচক: বাল্যবিবাহ রোধে এবার প্রশাসনের পাশাপাশি উদ্যোগ গ্রহণ করল রতুয়া-২ ব্লকের একটি রাজ্য সরকার পোষিত উচ্চ বিদ্যালয়। মালদহ জেলায় এই প্রথম কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে এই ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার সচেতনতা মূলক মিছিল, গম্ভীরা গানের মধ্যদিয়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের বার্তা তুলে ধরে পুখুরিয়া হাইস্কুল। বিদ্যালয়ের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ব্লক ও জেলা প্রশাসন এবং শিক্ষাদপ্তর।
উল্লেখ্য, মালদহ জেলাজুড়ে ক্রমশ বাড়ছে বাল্যবিবাহের সংখ্যা। ইতিমধ্যে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষাদপ্তর জেলা প্রশাসনের সাহায্যে গঠন করেছে টাস্কফোর্স। এমনকী পুলিস প্রশাসন, ব্লক ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকেও চালানো হচ্ছে বাল্যবিবাহ বিরোধী প্রচার অভিযান। এবার প্রশাসনের এই উদ্যোগে হাত মেলাল পুখুরিয়া হাইস্কুল। মালদহ জেলার অন্যান্য এলাকার মতো এই এলাকাতেও বাড়ছে বাল্যবিবাহের সংখ্যা। যার ফলে স্কুলছুটের সংখ্যাও বাড়ছে।
এই সংখ্যা কমাতেই পুখুরিয়া হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা পিয়ালী কুমার ছাত্রী ও মায়েদের সচেতন করতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ছাত্রীদের অভিভাবকরা সচেতন হলেই বাল্যবিবাহ রোধ সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তাই এদিন বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সচেতনতামূলক মিছিল করা হয়। এই মিছিলটি বিদ্যালয় থেকে রতুয়া-২ ব্লকের প্রশাসনিক ভবন পর্যন্ত যায়। মিছিলে ছাত্রীদের হাতে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিকগুলি প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
এই মিছিলে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের পাশাপাশি তাঁদের মায়েরাও অংশগ্রহণ করেছিলেন। পরে মানিক ঝাঁ ভবনে একটি গম্ভীরা গানের মাধম্যে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিকগুলি তুলে ধরা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের জেলা পরিদর্শক বাণীব্রত দাস, রতুয়া-২ ব্লকের বিডিও শেখর শেরপা সহ ব্লক ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা।
জেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক বাণীব্রত দাস বলেন, অভিভাবকরাই পারেন বাল্যবিবাহ রোধ করতে। তাঁরা সচেতন হলেই বাল্যবিবাহ রোধ সম্ভব হবে। পুখুরিয়া হাইস্কুলের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা পিয়ালী কুমার বলেন, এই কর্মসূচির ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উপর। তারা আমাকে আশ্বাস দিয়েছে পড়াশোনা চালিয়ে যাবে। নিজেদের পায়ে না দাঁড়ানো পর্যন্ত বিয়ে করবে না। এই আশ্বাস পেয়ে আমি অভিভূত।