সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ‘আমাদের শিক্ষকদের ফিরিয়ে দাও। গ্রামীণ শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা চলবে না। শিক্ষা আমাদের মৌলিক অধিকার।’ এমনই প্ল্যাকার্ড হাতে সোমবার মুরারইয়ের প্রত্যন্ত রাজগ্রাম মহামায়া হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ দেখাল। পড়াশোনা কীভাবে চলবে? ভবিষ্যতে কী হবে? পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পঠনপাঠন কীভাবে চলবে তা নিয়ে অভিভাবকরাও প্রশ্ন তুলেছেন।
রাজগ্রাম মহামায়া হাইস্কুলে দু’হাজারেও বেশি ছাত্রছাত্রী। যাদের একটা বড় অংশ অত্যন্ত দুঃস্থ, নিম্নবিত্ত পবিবারের। ‘উৎসশ্রী’তে বহু আগেই বেশ কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় বদলি নিয়ে চলে গিয়েছেন। তাতে যেখানে ৪০জন শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রয়োজন, ছিলেন মাত্র সাতজন। ফলে শিক্ষকের অভাবে ধুঁকতে থাকে প্রত্যন্ত এলাকার এই স্কুলটি। তার উপর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তিনজন শিক্ষক চাকরিহারা হয়েছেন। যার জেরে শিক্ষকের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে চারে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাদ পড়েছেন টিআইসি বিশ্বজিৎ গোস্বামীও। সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পর থেকে দু’জন শিক্ষক স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁরা দু’জনেই স্কুলের পরীক্ষার খাতা দেখছিলেন। টিআইসি স্কুলে আসছিলেন। কিন্তু, সোমবার তিনি স্কুলে আসেননি।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনজনের মধ্যে দু’জন অঙ্ক ও একজন ভূগোলের শিক্ষক ছিলেন। আদালতের রায়ের পর স্কুলে এই দু’টি বিষয়ের আর কোনও শিক্ষক থাকল না। এতেই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষক থেকে অভিভাবক, সকলেই। একইভাবে এত পড়ুয়াকে নিয়ে এই স্কুল কীভাবে চলবে তা নিয়ে বিপাকে পড়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ। অভিভাবকদের বক্তব্য, সকলকে অযোগ্যদের দলে ফেলে দেওয়া হল। এমনিতেই শিক্ষকের অভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিল স্কুলটি। রায়ের পর স্কুলটির করুণ দশা। এতে আগামী দিনে কীভাবে পঠনপাঠন চলবে তার কোনও দিশা নেই।
এদিন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা প্ল্যাকার্ড হাতে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখায়। বিক্ষোভরত দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী মুসকান খাতুন, জ্যোতি ভৌমিকরা বলে, শিক্ষা আমাদের মৌলিক অধিকার। অথচ সেই শিক্ষা থেকে আমরা বঞ্চিত হতে চলেছে। অঙ্ক, ভূগোল বিষয় কে পড়াবেন আমাদের? আমাদের ভবিষ্যত অন্ধকারের মুখে। ওই তিনজন শিক্ষক বাদ পড়ায় আমরা খুবই মর্মামত। অবিলম্বে আমাদের প্রিয় শিক্ষকদের সসম্মানে স্কুলে ফিরিয়ে দিতে হবে। কারণ ওঁরা শুধু শিক্ষকই ছিলেন না। আমাদের ভালো গাইডও করতেন। আমাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে শিক্ষকদের ফেরানো হোক।
স্কুলের শিক্ষক মহম্মদ রাইহান ইসলাম বলেন, এটাকে আমি বিক্ষোভ বলব না। ছাত্রছাত্রীরা ওদের মনের বেদনার কথা প্রকাশ করছে। বিদ্যালয়ের এখন শোচনীয় অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এত সংখ্যক পড়ুয়াকে কীভাবে পাঠদান করব সেটাই এখন চিন্তার। এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছি আমরা।
টিআইসি বিশ্বজিৎ গোস্বামী বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সভার জন্য কলকাতায় আছি। পড়ুয়ারা নিজেদের অসুবিধা বুঝতে পেরে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। মোট সাতজন শিক্ষকের তিনজনই বাদ পড়ায় আগামী দিনে পঠনপাঠন কীভাবে চলবে তা নিয়ে অভিভাবকরাও প্রশ্ন তুলছেন।