Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নষ্ট হচ্ছে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ, রাজ্যের সমস্ত নার্সিং কলেজে অডিটের নির্দেশ হাইকোর্টের

এবার হাইকোর্টের নজরে রাজ্যের নার্সিং কলেজ। এমন একাধিক প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে রাজ্যজুড়ে। এই নার্সিং কলেজগুলি কি পড়ুয়াদের দায়িত্ব নিচ্ছে?

নষ্ট হচ্ছে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ, রাজ্যের সমস্ত  নার্সিং কলেজে অডিটের নির্দেশ হাইকোর্টের
  • ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: এবার হাইকোর্টের নজরে রাজ্যের নার্সিং কলেজ। এমন একাধিক প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে রাজ্যজুড়ে। এই নার্সিং কলেজগুলি কি পড়ুয়াদের দায়িত্ব নিচ্ছে? এই প্রশ্ন তুলে অডিটের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। রাজ্যে মোট কত নার্সিং কলেজ রয়েছে, সেখানে পড়ুয়ার সংখ্যা কত এবং কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়? এমন একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলে রাজ্য নার্সিং কাউন্সিলকে অডিট করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। কাউন্সিলকে অডিট করে আদালতে রিপোর্ট দিতে হবে ছ’মাসের মধ্যে। অডিট করতে গিয়ে কোনও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গোলযোগ ধরা পড়লে দ্রুত এফআইআর’ও করতে পারবে কাউন্সিল। নির্দেশে স্পষ্ট করেছেন বিচারপতি।

Advertisement

দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় বেদান্ত নার্সিং কলেজের দুই ছাত্রী হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, প্রথম বর্ষের ক্লাসের পর কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন—পর্যাপ্ত পড়ুয়া নেই, তাই কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হবে! কিন্তু তাঁরা প্রায় ৩ লক্ষ টাকা দিয়ে নার্সিং কোর্সে ভরতি হয়েছিলেন। কলেজ সুরাহা না-করায় ওই দু’জন পরে কাউন্সিলের দ্বারস্থ হন। কাউন্সিলও কোনও পদক্ষেপ করেনি। শেষমেশ হাইকোর্টে মামলা করেন তাঁরা। 
সেই মামলায় বিচারপতি বসুর পর্যবেক্ষণ, রাজ্যেজুড়ে এমন কত প্রতিষ্ঠান খুলছে আর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তার কোনও হদিশই নেই। কাজের খোঁজে হাজার হাজার ছেলেমেয়ে সেখানে মোটা টাকা দিয়ে ভরতি হচ্ছেন। অথচ ব্যবসা না চললেই মালিকরা ঝাঁপ বন্ধ করে দিচ্ছেন! পড়ুয়াদের কোনও দায়িত্বই নিচ্ছেন না কর্তৃপক্ষ। কোনও নজরদারি ছাড়াই এভাবে এসব চলতেই পারে না। মন্তব্য করেন বিচারপতি। তিনি আরও বলেন, রাজ্যে ট্রাস্টি গড়ে শুধু নার্সিং কলেজ নয়, স্কুল এবং অন্য কলেজও চলছে। শিক্ষা চলে গিয়েছে ট্রাস্টির হাতে। কিন্তু দিনের শেষে কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। 
অডিটের নির্দেশের পাশাপাশি বেদান্ত নার্সিং কলেজ পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ৯ ট্রাস্টিকে হাজিরারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কলেজের তরফে দাবি করা হয়েছে, পড়ুয়ার অভাবে তারা কোনওভাবেই কলেজ চালাতে পারছে না। কিন্তু বিচারপতির সাফ কথা, এভাবে কখনওই মামলাকারীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। ৯ জন ট্রাস্টিকে এক লক্ষ টাকা করে কাউন্সিলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি বসু। সেই টাকায় কাউন্সিল ওই দুই ছাত্রীকে অন্যকোনও কলেজে ভরতি করবে। বাকি টাকায় হবে উন্নয়নমূলক কাজ। মামলাকারীর আইনজীবী অরিন্দম দাস বলেন, ট্রাস্টি গঠন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা কম। কিন্তু তারপর ব্যবসা না-হলেই প্রতিষ্ঠান দ্রুত গুটিয়ে ফেলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ