রাজ্যে ফের চালু হচ্ছে পাশ-ফেল? পক্ষে সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যান, শীঘ্রই আলোচনা
  • ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: ফের আলোচনায় উঠে আসছে পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণিতে পাশ-ফেল ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ। সম্প্রতি স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন একটি শিক্ষক সংগঠনের দাবির প্রেক্ষিতে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এবার রাজ্যের নতুন স্কুল সিলেবাস ও কারিকুলাম এক্সপার্ট কমিটিও পাশ-ফেল ফেরানোর ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা করছে। চেয়ারম্যান দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ও এর পক্ষে। তবে তার আগে সব পক্ষের মত নিতে চান নীতি নির্ধারকরা।

Advertisement

২০১৮ সালে পার্লামেন্টে বিল পাশ করে পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণিতে পাশ-ফেল ফেরানোর জন্য ‘শিক্ষার অধিকার আইন’ সংশোধন করে মোদি সরকার। তাতে বলা হয়, এই দুটি ক্লাসে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। তাতে যে পড়ুয়ারা অকৃতকার্য হবে, তাদের দুমাসের মধ্যে ফের পরীক্ষা নেওয়া হবে। তাতেও যদি কেউ অকৃতকার্য থাকে, তাহলে তাকে সেই ক্লাসেই থেকে যেতে হবে। তবে দুমাস অকৃতকার্য পড়ুয়াদের বিশেষ রেমেডিয়াল ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে বাধ্যতামূলকভাবে। সেটা ছাড়া নতুন পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। তবে এই ব্যবস্থা রাজ্যগুলির উপরে চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার রাজ্যগুলির উপরেই ছেড়ে দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এই ব্যবস্থাকে স্বাগত জানান। কিন্তু সর্বোচ্চ স্তর থেকে সবুজ সংকেত না মেলায় তা কার্যকর করা যায়নি।
দেবাশিসবাবু বলেন, ‘স্কুলশিক্ষার যা হাল, তাতে পাশ-ফেল ফিরিয়ে না আনলে ভবিষ্যতে বড়ো বিপর্যয় হবে। এ ব্যাপারে যদি বিভিন্ন মহল থেকে প্রস্তাব আসে, আমরা সেটা বিবেচনা করে শিক্ষাদপ্তরের কাছে সুপারিশ করব। আইন যেহেতু সংশোধন করাই আছে, তাই এটা ফিরিয়ে আনতে কোনো জটিলতা থাকার কথা নয়।’ অল বেঙ্গল সেভ এডুকেশন কমিটির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তরুণকান্তি নস্কর বলেন, ‘১৯৮২ সালে বামফ্রন্ট সরকার এ রাজ্যে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পাশ-ফেল তুলে দিয়েছিল। আর ২০০৯ সালে ইউপিএ-২ সরকার শিক্ষার অধিকার আইন এনে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাশ-ফেল তুলে দেয়। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া পঞ্চম শ্রেণির বই রিডিং পড়তে পারছে না। সাধারণ যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগও করতে পারছে না। এদিকে, বোর্ড পরীক্ষায় ঝুড়ি ঝুড়ি নম্বর দিয়ে সেসব ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পাশ-ফেলের বিপক্ষে ছিলেন। তিনিও প্রকাশ্যেই বোর্ড পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন। আমরা ২৪ জানুয়ারি বেঙ্গালুরুতে পিপলস পার্লামেন্টে পিপলস এডুকেশন পলিসিতে পাশ-ফেল ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব রেখেছি। জাতীয় শিক্ষানীতি চালু নিয়ে রাজ্য সরকার যা হইচই করছে, তা পাশ-ফেল ফেরানো নিয়ে করছে না।’ প্রসঙ্গত, বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতিও একই দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বর্তমান স্কুলশিক্ষা মন্ত্রীকে। তবে যে যে রাজ্যে বিষয়টি চালু হয়েছে, সেখানে এনিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে। ফলে সবদিক ভেবেই এগতে চাইছে সরকার।