পুজোয় যেতে পারেননি বিধানসভা কেন্দ্রে,  রাজনীতি ছাড়ার ভাবনা মদনের
  • ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের পাশে দাঁড়াতে না পারার আক্ষেপে রাজনীতি থেকেই অবসরের কথা ভাবছেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। দুর্গাপুজোয় নিজের এলাকায় যেতে না পেরে হতাশ মদনের মন্তব্য, ‘আই হেট পলিটিক্স। মানুষের জন্য কাজই যদি করতে না পারি, তাহলে রাজনীতিতে থেকে লাভ কী?’ 

Advertisement

প্রতি বছর পুজোয় কামারহাটিতে বিভিন্ন কর্মসূচি করেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র।  কিন্তু এবার সেই পরিচিত ছবি দেখা যায়নি। বিধায়কের দাবি, এলাকায় অনেকে খাবার পাচ্ছেন না। জুটছে না সামান্য চাল বা ভালো জামাকাপড়। অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার লোকও মিলছে না। মানুষের পাশে দাঁড়াতে না পারার জন্য এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। নিজের কেন্দ্রে যেতে না পারার জন্য এলাকার দুষ্কৃতীদের হুমকি ও সন্ত্রাসকে দায়ী করেছেন মদন। তাঁর অভিযোগ, অসামাজিক কাজে বাধা দেওয়ায় তাঁকে নিশানা করা হচ্ছে। শাসক দলের নাম ভাঙিয়ে কয়েকজন সমাজমাধ্যমে নিজেদের ‘ডন’ বলে পরিচয় দিচ্ছে। সেই দাপটের সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের তুলনা টেনে মদন বলেন, ‘দুষ্কৃতীদের একাধিক ভিডিয়ো পুলিশের কাছে পাঠিয়েছি।’ তবে হুমকির মুখে পিছিয়ে যেতে নারাজ বিধায়ক। একাই বি টি রোড ধরে কামারহাটি যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘যদি কেউ মারে, গুলি চালায়, মানুষ দেখবে। পুলিশের লাঠি খেতেও রাজি। তবে পালটা আক্রমণ করব না।’ রাজনীতি ছাড়লে চাকরি ও বিধায়কের পেনশনে জীবন কাটানোর কথা ভাবছেন মদন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধার পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীকে ছোটো ভাইয়ের মতো ভালোবাসা  জানিয়েছেন তিনি।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যাওয়া নিয়ে বিতর্কে তাঁর প্রশ্ন, ‘শেল্টার কি ঈশ্বর ছাড়া কেউ কাউকে দিতে পারেন?’এনিয়ে বিজেপির কলকাতা উত্তর শহরতলির সভাপতি চণ্ডীচরণ রায়ের কটাক্ষ, ‘মদনের কথিত দুষ্কৃতীরা তাঁর নিজেরই তৈরি। ভাগ-বাটোয়ারা ঠিকমতো না হওয়াতেই তিনি ভয় পাচ্ছেন কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানো মদনের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন চণ্ডীচরণ।