নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ‘প্রেমিক’ বিবাহিত জানতে পেরেই সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু। তার জেরে হোয়াটসঅ্যাপে স্টেটাস দিয়ে আত্মঘাতী পলিটেকনিকের ছাত্রী কেয়া রায় (১৮)। জলপাইগুড়ির রংধামালির ওই ঘটনায় কোচবিহারের এক যুবকের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে মৃত ছাত্রীর পরিবার। কোচবিহারের শীতলকুচির বাসিন্দা ওই যুবক তাঁর মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছে বলে অভিযোগ বাবা কিশোর রায়ের। তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত।
এদিকে, অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁর দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় কেয়ার সঙ্গে পরিচয়। বছর দু’য়েক চিনি। বন্ধু হিসেবেই কথা বলতাম। দু-একবার দেখা করেছি।
তিনি যে বিবাহিত, সেটা লুকিয়েই কেয়ার সঙ্গে ‘সম্পর্ক’ তৈরি করেছিলেন, এদিন ফোনে তা স্বীকার করে নিয়েছেন অভিযুক্ত যুবক। তিনি বলেন, প্রথমে কেয়াকে বলিনি আমি বিবাহিত। কিন্তু মাস খানেক পর ওকে জানিয়েছিলাম, আমার স্ত্রী ও দু’টি সন্তান রয়েছে। কেয়ার সঙ্গে গত কয়েকদিন ধরে ফোনে কোনও কথা হয়নি।
মৃত ছাত্রীর বাবা মন্তব্য করতে না চাইলেও কাকা বাবলু রায় বলেন, ভাইঝির মোবাইল ঘেঁটে আমরা জানতে পেরেছি, শীতলকুচির এক যুবকের সঙ্গে তার চার বছর ধরে সম্পর্ক ছিল। ছেলেটি বিবাহিত, সেটা লুকিয়েই ভাইঝির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে বলে জানতে পেরেছি। পরে ভাইঝি সেটা জেনে যাওয়াতেই সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয় বলে ধারণা আমাদের।
আত্মঘাতী হওয়ার আগে জলপাইগুড়ি পলিটেকনিক কলেজে দ্বিতীয় সেমেস্টারের ছাত্রী কেয়া হোয়াটসঅ্যাপে যে স্টেটাস দিয়েছিলেন, তা পুলিসের হাতে এসেছে।
পুলিস সূত্রে খবর, বুধবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপে স্টেটাস দেন ওই ছাত্রী। সেই সময় তাঁর বাবা চা বাগানে ওষুধ স্প্রে করতে গিয়েছিলেন। বাড়ির পাশেই একটি দোকান রয়েছে তাঁদের। সেখানে ছিলেন ছাত্রীর মা। বিকেল চারটে নাগাদ ছাত্রীর বাবা বাড়ি ফিরে হাত-মুখ ধুচ্ছিলেন। সেই সময় তিন যুবক এসে আচমকা বাড়িতে ঢুকে দরজা ভেঙে ওই ছাত্রীর বেড রুমে যান। সেখান থেকে তাঁরা গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা ছাত্রীর দেহ উদ্ধার করেন। পুলিস সূত্রে খবর, ওই ছাত্রীর হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাস দেখেন ময়নাগুড়ির বাসিন্দা তাঁরই এক বান্ধবী। তিনিই সহপাঠী ওই যুবকদের কেয়ার বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি দেখতে বলেন। কিন্তু তাঁরা ছাত্রীকে উদ্ধার করতে এসে গণধোলাইয়ের শিকার হন।