সংবাদদাতা, ইটাহার: পড়াশোনার পাশাপাশি পড়ুয়াদের কৃষিকাজে উৎসাহ বৃদ্ধি, মিড ডে মিলে রাসায়নিক মুক্ত সবজির জোগান দেওয়ার কথা ভেবে ইটাহারের বানবোল হাইস্কুলে নতুন উদ্যোগ। পড়ুয়াদের হাতে গড়ে উঠেছে এক টুকরো সবজি বাগান। যাবতীয় পরিচর্যা করে পড়ুয়ারাই। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পড়ুয়াদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে ব্লক প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা দপ্তর। ইটাহার চক্রের এসআই বিপ্লব বিশ্বাস বলেন, সমস্ত বিদ্যালয়ে এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
খুব অল্প সংখ্যক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সবজি বাগান দেখা গেলেও হাইস্কুলে তেমন একটা দেখা যায় না। তবে, ইটাহার ব্লকে এক মাত্র বানবোল হাইস্কুল প্রাঙ্গণে পড়ুয়াদের হাতে গড়ে উঠেছে রকমারি সবজির বাগান। বাঁধাকপি, ফুলকপি, ধনেপাতা, মটরশুটি, লঙ্কা, পালং, আলু, টমেটো, পেঁয়াজ, কলা, ভুট্টা চাষ হয়েছে এবার। এছাড়া মরসুমি গাঁদা সহ দশ ধরনের ফুল চাষ করেছে স্কুলের পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ারা।
পড়ুয়া জয়শ্রী বর্মনের কথায়, শিক্ষকরা আমাদের পদ্ধতি শিখিয়ে দেন। সহপাঠীরা মিলে সবজি, ফুল ও ফল চাষ করেছি। স্কুল প্রাঙ্গণের ভিতরে প্রায় দেড় বিঘা জমিতে এই বাগান গড়ে উঠেছে। চাষ হয় জৈবসার ব্যবহার করে। অনেক পড়ুয়া আবার বাড়ি থেকে সার নিয়ে আসে। এক পড়ুয়া সন্দীপ বর্মন বলে, আমারা স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি সবজি চাষ কীভাবে হয়, সেসব হাতেকলমে শিখছি।
স্কুলের বাগানের রাসায়নিকমুক্ত সবজি কিছুটা ব্যবহৃত হয় পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য মিড ডে মিলে। সবজি চাষে যাবতীয় খরচ বহন করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরিচালন সমিতির সভাপতি পম্পা রায় বলেন, সার্বিকভাবে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পড়ুয়াদের পাশে আছি। মূলত, কৃষি প্রধান অঞ্চলে পড়ুয়াদের পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষিকাজে আগ্রহ বৃদ্ধি করতেই এই উদ্যোগ স্কুল কর্তৃপক্ষের।
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক চন্দ্র নারায়ণ সাহার মন্তব্য, পুঁথিগত শিক্ষার বাইরে বেরিয়ে পড়ুয়াদের কৃষিকাজ সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জনে সাহায্য এবং স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ। নিজস্ব চিত্র