Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিউড়ির একাধিক সরকারি স্কুলে পড়ুয়া সংখ্যা তলানিতে, উদ্বেগে শিক্ষকসমাজ

যত দিন যাচ্ছে বেসরকারি স্কুলেই সন্তানদের ভর্তি করার ঝোঁক বাড়ছে অভিভাবকদের। তাতেই কমছে সরকারি প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়া। বীরভূমের সিউড়ি শহরের একাধিক স্কুলের এমনই অবস্থা।

সিউড়ির একাধিক সরকারি স্কুলে পড়ুয়া সংখ্যা তলানিতে, উদ্বেগে শিক্ষকসমাজ
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:০৮
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, সিউড়ি: যত দিন যাচ্ছে বেসরকারি স্কুলেই সন্তানদের ভর্তি করার ঝোঁক বাড়ছে অভিভাবকদের। তাতেই কমছে সরকারি প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়া। বীরভূমের সিউড়ি শহরের একাধিক স্কুলের এমনই অবস্থা। শিক্ষক, শিক্ষিকাদের দাবি, সরকারি স্কুলে সুযোগ, সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অভিভাবকরা কেন বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের প্রতি বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এছাড়া যে সব প্রাথমিক স্কুল কোনও হাই স্কুলের ক্যাম্পাসে থাকছে সেখানেও ছেলে-মেয়েদের ভর্তির প্রবণতা বাড়ছে। তার জন্যই ছাত্রাভাবে ধুঁকছে সরকারি প্রাথমিক স্কুলগুলি।  সিউড়ির বারুইপাড়ায় নিম্ন বুনিয়াদি প্রাথমিক স্কুলে একসময় প্রচুর পড়ুয়া পড়ত। গমগম করত শ্রেণিকক্ষ। এখন শিক্ষক দু’জন। আর পড়ুয়া মাত্র আট! ওই স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাক প্রাথমিকে এবছর মাত্র একজন ভর্তি হয়েছে। প্রথম শ্রেণিতে কোনও ছাত্র নেই। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে দু’জন করে পড়ুয়া। এছাড়া ওই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়ার সংখ্যা মাত্র তিন। যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেই মনে করছেন প্রধান শিক্ষক বিমলেন্দু হাজরা। তিনি বলেন, স্কুলের আশপাশের এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়েছি। কিন্তু অভিভাবকরা বেসরকারি স্কুল ও যেসব প্রাথমিক স্কুল উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে একই ক্যাম্পাসে যুক্ত সেখানেই পড়ুয়াদের ভর্তি করতে চান। তবে ছাত্র সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একই ছবি সিউড়ির আনন্দপুর জিএসএফ প্রাথমিক স্কুলে। সেখানে মোট পড়ুয়া ২০ জন। আর শিক্ষক, শিক্ষিকা রয়েছেন দু’জন। আরও এক শিক্ষিকা রয়েছেন ডেপুটেশনে। জানা গিয়েছে, ওই স্কুলে প্রাক প্রাথমিকে রয়েছে ছ’জন পড়ুয়া, প্রথম শ্রেণিতে একজন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে তিন জন, তৃতীয় শ্রেণিতে সাত জন এবং চতুর্থ শ্রেণিতে মাত্র চার জন পড়ুয়া। অর্থাৎ শিক্ষক, শিক্ষিকার হারের সঙ্গে পড়ুয়ার সংখ্যা অনেক কম। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি স্কুলে অন্তত দু’জন শিক্ষক থাকতে হবে। একজন শিক্ষক পিছু সর্বোচ্চ ৩০জন পড়ুয়া থাকবে। সেই হিসেবে এখানে পড়ুয়া সংখ্যা অনেক কম। আনন্দপুর জিএসএফ প্রাথমিক স্কুলের সহ শিক্ষক সৌমিক গড়াই বলেন, বেসরকারি স্কুলের জন্যই বাংলা মাধ্যমের প্রাথমিক স্কুলগুলিতে পড়ুয়া কমে যাচ্ছে। এই দুই স্কুলের মতো সিউড়ির বড়বাগান প্রাথমিক স্কুলেও একই ছবি। ওই স্কুলের মোট পড়ুয়া সংখ্যা ২০ আর শিক্ষক, শিক্ষিকার সংখ্যা চার জন। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বিদ্যালয়ে প্রাক প্রাথমিকে একজনও ভর্তি হয়নি এবার। স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষক, শিক্ষিকার অনুপাতে ছাত্রের সংখ্যা এখানেও অনেক কম।  এই নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান প্রলয় নায়েক বলেন, যে সব স্কুলে ছাত্র সংখ্যা কমে যাচ্ছে সেখানে শিক্ষক, শিক্ষিকারা পড়ুয়াদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছেযাচ্ছেন। তবে এখন একটি করে সন্তান নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। তাই পড়ুয়ার সংখ্যাও কমছে। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ