নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দশম শ্রেণির পড়ুয়ার অপহরণের ঘটনায় সালানপুর থানার বনেজেমারি কোলিয়ারিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার টিউশন পড়তে গিয়ে নামী বেসরকারি স্কুলের ওই ছাত্রী নিখোঁজ হয়ে যায়। সেদিন রাত থেকেই তার ফোন থেকে বাড়ির নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আসছে। কখনও নাবালিকা তাকে বাঁচানোর আর্জি জানাচ্ছে। আবার কখনও অপহরণকারী হুমকি দিচ্ছে। তিনলক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে।
শনিবার রাত থেকেই পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। প্রযুক্তির সাহায্যে পুলিস জানতে পারছে, কখনও ওই ছাত্রীর অবস্থান এলাহাবাদে, আবার কখনও সুরাতে। এঘটনায় পুলিসমহলেও আলোড়ন পড়েছে। এটি আদৌ অপহরণের ঘটনা, নাকি পরিচিত কারও সঙ্গেই উধাও হয়ে টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করা হচ্ছে-তা পুলিস খতিয়ে দেখছে। ডিসি সন্দীপ কাররা বলেন, পুলিসের একাধিক টিম ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছে। তাড়াতাড়ি রহস্য উন্মোচিত হবে।
বনজেমারি কোলিয়ারি কোয়ার্টারেই ওই ছাত্রীর পরিবার থাকে। শনিবার সকালে মেয়েটি টিউশন পড়তে রূপনারায়ণপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু দুপুর ২টো অবধি সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। গৃহশিক্ষকের কাছে গিয়ে জানতে পারেন, মেয়েটি পড়তে আসেনি। এরপরই তাঁরা পুলিসের দ্বারস্থ হন।
পুলিস সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখতে পায়, রামডি থেকে রূপনারায়ণপুরগামী বাসে উঠছে ওই নাবালিকা। এরপর রূপনারায়ণপুরে তার আর কোনও ফুটেজ ধরা পড়েনি। এরপর পুলিস খবর পায়, মেয়েটিকে আসানসোল বাসস্ট্যান্ডে দেখা গিয়েছে। কিন্তু পুলিস ও পরিবারের লোকজন সেখানে গেলে তার হদিশ মেলেনি। এরপর খবর আসে, মেয়েটিকে আসানসোল স্টেশনে দেখা গিয়েছে। সেখানে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। কিন্তু রেলের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ নাবালিকা স্টেশনেই ছিল।
এরপর শনিবার রাতেই ওই ছাত্রী বাবার ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে। সে লেখে, ‘খুব বিপদে আছি, আমাকে বাঁচাও’। তখন বিহারের লক্ষ্মীসরাই স্টেশনে তার অবস্থান দেখা যায়। সেখানেও পুলিস ও পরিবারের লোকজন পৌঁছে যান। পরে মেয়েটির ফোন থেকেই মেসেজ করে জানানো হয়, নাবালিকা অসুস্থ। তাকে জীবিত পেতে হলে তিন লক্ষ টাকা দিতে হবে। অসুস্থ মেয়ের ছবিও মোবাইলে পাঠানো হয়। এতে পরিবারে কান্নার রোল ওঠে। তখন উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ স্টেশনের কাছে অবস্থান দেখা যায়।
তিনদিন ধরে এভাবেই মেসেজ আসছে। টাকা নেই বলে জানানোয় অপহরণকারী বলে, যা আছে তাই দিতে হবে। পরিবারের তরফে একবার দু’হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। সোমবার অবস্থান গুজরাটের সুরাটে পাওয়া গেলেও মঙ্গলবার জানা যায়, মেয়েটি মহারাষ্ট্রে রয়েছে। একদিকে অপহরণকারীরা টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে; অপরদিকে পুলিস জানিয়েছে, তদন্ত শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নাবালিকার পরিবার প্রচণ্ড উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করছে।
পুলিস জানিয়েছে, আসানসোল স্টেশনে মেয়েটি একজনের ফোন নিয়ে রূপনারায়ণপুরের অটোচালককে ফোন করেছিল। পুলিস তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। মেয়েটির বন্ধুদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ট্রেনে যাত্রা করতে করতে মেসেজ করা হচ্ছে বলে প্রাথমিকভাবে পুলিস মনে করছে।