Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রেমিকের প্রতি অভিমান, লাইভ করে আত্মঘাতী ছাত্রী

প্রেমিকের সঙ্গে মনোমালিন্য, কথা কাটাকাটির জেরে ইনস্টাগ্রাম লাইভ করে ওড়নার ফাঁসে আত্মঘাতী হলেন এক ছাত্রী। বৃহস্পতিবার পটাশপুর থানার খাড় পঞ্চায়েতের মালিপাটনা গ্রামের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

প্রেমিকের প্রতি অভিমান, লাইভ করে আত্মঘাতী ছাত্রী
  • ১৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: প্রেমিকের সঙ্গে মনোমালিন্য, কথা কাটাকাটির জেরে ইনস্টাগ্রাম লাইভ করে ওড়নার ফাঁসে আত্মঘাতী হলেন এক ছাত্রী। বৃহস্পতিবার পটাশপুর থানার খাড় পঞ্চায়েতের মালিপাটনা গ্রামের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম রীতা রায় (২০)। এদিন সকাল আটটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। আট মিনিটের সেই ভিডিও দেখে শিউরে উঠেছেন পাড়া প্রতিবেশী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। জানা গিয়েছে, এদিন প্রেমিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে বলতে মনোমালিন্য হয়। আর সেই সময়ে ইনস্টাগ্রাম লাইভ চালু করে বাড়ির কড়িকাঠে ওড়না বেঁধে গলায় জড়িয়ে ঝুলে পড়েন ছাত্রী। সেই সময়ে তাঁর বাবা-মা বাড়িতে ছিলেন না। বাবা যাদব রায় মাঠে ছিলেন। মা রিঙ্কু রায় কিছুটা দূরে এক গ্রামবাসীর বাড়িতে দুধ আনতে গিয়েছিলেন। তবে সেই মুহূর্তে ইনস্টাগ্রামে মেয়েটির যেসব বন্ধুরা অনলাইনে ছিলেন, তাঁরা ঘটনাটি দেখা মাত্রই ছাত্রীটির বাড়িতে ছুটে যান। বাবা-মাও ততক্ষণে চলে আসেন। সকলে মিলে দরজা ভেঙে যখন দেহটি নামান, ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গিয়েছে। পরে পুলিস দেহ উদ্ধার করে  ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তবে লাইভ ভিডিওতে যেভাবে ঝুলছিলেন ওই ছাত্রী, তা দেখে অনেকে মনে করছেন, প্রেমিককে আত্মহত্যার ভয় দেখাতে গিয়ে হয়তো সত্যি সত্যি অঘটন ঘটে গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিলেন রীতা। স্থানীয় বারবাটিয়া হাইস্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে পশ্চিম মেদিনীপুরের খাকুড়দার একটি বেসরকারি কলেজে ডিএলএড করছিলেন। দিনমজুরি করে সংসার চালান যাদববাবু। মা রিঙ্কুদেবী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে স্থানীয় স্কুলে রান্না করেন। মামার বাড়ি থেকে ছাত্রীটিকে পড়াশোনার জন্য সহযোগিতা করা হতো।  স্থানীয়দের দাবি, বেশ কয়েকমাস আগে রীতার সঙ্গে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ইদানীং দু’জনের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁদের কথা কাটাকাটি পর্যন্ত হয়। আর তার পরেই ঘটনাটি ঘটান রীতা। বারবাটিয়া হাইস্কুলের শিক্ষক অলকেশ মাইতি বলেন, আমাদের স্কুলেই দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন রীতা। মৃদুভাষী ও শান্ত স্বভাবের রীতা এই ঘটনা ঘটাবেন, এটা এলাকার কেউ ভাবতে পারেননি। সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে এরকম আত্মহত্যার ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি খুব উদ্বেগজনক। আমরা ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়েছিলাম। বাবা-মা শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন। তাঁরা কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। এদিকে পুলিস পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়েছে। পটাশপুর থানার ওসি সূরয আশ বলেন, এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ এলে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ