ভুবনেশ্বর, ১৩ জুলাই: দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন ও হেনস্তা করছেন অধ্যাপক তথা বিভাগীয় প্রধান। কলেজ কমিটিকে জানিয়ে কোনও লাভ হয়নি। পুলিসে অভিযোগ করলেও তদন্ত শুরু হয়নি। শেষে কোনও উপায় না দেখে, কলেজের ক্যাম্পাসেই গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক ছাত্রী। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ডাবল ইঞ্জিনের সরকার ওড়িশায়। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশি রাজ্যের এক প্রথম সারির সরকারি কলেজে এমন ঘটনা ঘটেছে। অতি সঙ্কটজনক অবস্থায় ভুবনেশ্বর এইমসে ভর্তি রয়েছেন ওই ছাত্রী। তাঁর শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বাঁচার আশা ক্ষীণ রয়েছে। তাঁর চিকিৎসার জন্য গঠন করা হয়েছে একটি চিকিৎসকদের দল।
ছাত্রীর অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই কলেজের অধ্যাপক তথা বিভাগীয় প্রধান তাঁকে উত্যক্ত করতো। মানসিক ও শারীরিক হেনস্তা ও নির্যাতনও করতো। গোটা বিষয়টি নিয়ে কলেজের আভ্যন্তরীন তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত আকারে অভিযোগও জানিয়েছিল ওই ছাত্রী। কিন্তু কোনও ফল হয়নি। তারপরেই কলেজে ধর্নায় বসে সে। এমনকী পুলিসেও অভিযোগ জানায়। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ করেনি পুলিস। এই পরিস্থিতিতে গতকাল, শনিবার বিকেলে ওই নির্যাতিতা ছাত্রী কলেজের অপর এক অধ্যাপকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে যান। দ্রুত বিচারের দাবিও জানান। অভিযোগ, তারপরই তিনি কলেজ ক্যাম্পাসের ভিতরে নিজের গায়ে আচমকাই আগুন লাগিয়ে দেন। তাঁকে বাঁচাতে ছুটে যায় তাঁর এক সহপাঠী। কিন্তু ততক্ষণে ওই ছাত্রীর গোটা শরীরে ধরে গিয়েছে আগুন। কোনওরকমে সেটি নিভিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গোটা ঘটনা প্রসঙ্গে কলেজের দাবি, তারা এই প্রসঙ্গে একটি রিপোর্ট গত ৯ জুলাই কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করেছিল। ওই নির্যাতিতা ছাত্রীর এক সহপাঠী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত অধ্যাপক ওকে কুপ্রস্তাব দিত। সেই প্রস্তাবে সাড়া না দিলে তাঁর ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেওয়ার হুমকিও দিতেন অভিযুক্ত। এমনকী ওই অধ্যাপকের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নির্যাতিতাকে ক্লাসে ঢুকতেও দিত না।
ইতিমধ্যেই গোটা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছে ওড়িশা সরকার। ওই কলেজের অধ্যক্ষ ও অভিযুক্ত অধ্যাপককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। গ্রেপ্তারও করা হয়েছে অভিযুক্তকে। যদিও গোটা ঘটনা নিয়ে ওড়িশার বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। আজ, রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূলের তরফে লেখা হয়েছে, ‘অন্য দিন, ভিন্ন নির্যাতিতা। বিজেপি সরকারের তত্ত্বাবধানে সর্বত্র একই পচন ছড়িয়ে পড়েছে। ওড়িশার বালেশ্বরে এক ছাত্রীকে তাঁর বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কুপ্রস্তাব দেয়, তাঁর প্রস্তাব না মানলে ছাত্রীর ভবিষ্যৎ নষ্ট করার হুমকিও দেয়। এর জেরে গায়ে পেট্রল ঢেলে, আগুন লাগিয়ে নিজেকে শেষ করে দিতে বাধ্য হন ওই ছাত্রী। তাঁর শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। ছাত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর সহপাঠীর শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়েছে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাজির নীরবতা অত্যন্ত লজ্জাজনক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি শব্দও খরচ করেননি। এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করে যে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়।’