Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাবার পিস্তল এনে শিক্ষক খুনের চেষ্টা আটক ছাত্রের, পলাতক স্থানীয় তৃণমূল নেতা, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তদন্ত

বাবার কাছে থাকা পিস্তল হাতিয়েই টিফিন পিরিয়ডে শিক্ষককে গুলি করে খুনের চেষ্টা করেছিল ছাত্র।

বাবার পিস্তল এনে শিক্ষক খুনের চেষ্টা আটক ছাত্রের, পলাতক স্থানীয় তৃণমূল নেতা, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তদন্ত
  • ২০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বাবার কাছে থাকা পিস্তল হাতিয়েই টিফিন পিরিয়ডে শিক্ষককে গুলি করে খুনের চেষ্টা করেছিল ছাত্র। গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের চোরচিতা চোরেশ্বর বিদ্যালয়ে সোমবারের ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই জানতে পেরেছে পুলিস। ঝাড়গ্রামে শিক্ষাক্ষেত্রে এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। ফলে এই ঘটনায় জেলাজুড়ে শোরগোল পড়েছে। ওই দশম শ্রেণির ছাত্রের বাবা কেষ্ট দলাই এলাকায় তৃণমূলের দাপুটে নেতা বলে পরিচিত। সোমবারের ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক। পুলিস তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। মঙ্গলবার ওই ছাত্রকে ঝাড়গ্রামের জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে তোলা হয়। তাকে পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের একটি হোমে ১সেপ্টেম্বর অবধি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

ঝাড়গ্রামের ডিএসপি (হেডকোয়ার্টার) সমীর অধিকারী বলেন, ওই ছাত্রের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি যথেষ্ট উন্নত মানের। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে, সে তার বাবার কাছ থেকে পিস্তলটি কোনওভাবে সংগ্রহ করেছিল। ওই ছাত্রের বাবা পলাতক। পুলিসের টিম তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ওই ছাত্রের বাবা কেষ্ট দলাই শাসকদলের ক্ষমতাশালী নেতা। স্থানীয় তৃণমূল নেতারাও তাঁকে সমঝে চলেন। বছরখানেক আগে ওই ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীদের হাতে বেধড়ক মার খেয়ে প্রায় মৃত্যুর মুখে পড়েছিলেন। সূত্রের খবর, সেঘটনায় স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের জড়িত থাকা নিয়ে সাময়িক জলঘোলা হয়। পরে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। সে ঘটনার পর এলাকায় কেষ্টবাবুর দাপট বহুগুণ বেড়ে যায়। প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও স্থানীয়রা অনেকেই মনে করছেন, এমন নেতার কাছে পিস্তল থাকা অস্বাভাবিক নয়।
মঙ্গলবার চোরচিতা চোরেশ্বর বিদ্যালয়ে পরিবেশ ছিল থমথমে। চতুর্থ পিরিয়ডের পর স্কুল ছুটি হয়ে যায়। পরিচালন সমিতির তরফে এদিন স্কুলে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেখানে শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিক, শিক্ষক ও স্কুলের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। স্কুলের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ওই দশম শ্রেণির ছাত্রকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই ইতিহাসের শিক্ষক পরিমল অট্ট বলেন, ছাত্রটির এমন আচরণে আমরা সবাই হতবাক। কিছুটা উদ্বেগের মধ্যেই আছি।
এঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতেও আলোড়ন পড়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতা রবীন ভুঁইয়া বলেন, কেষ্টবাবু তৃণমূলের সমর্থক। দলের মিটিং-মিছিলে উপস্থিত থাকেন। সন্ত্রাসমূলক কাজকর্মে জড়িত নন। তাঁর ছেলের হাতে এমন অস্ত্র কীভাবে এল, সেটা ভেবেই অবাক হচ্ছি। আমরাই চাই, পুলিস ঘটনার তদন্ত করে দেখুক। 
এলাকার বিজেপি নেতা সুখলাল মারাণ্ডি বলেন, গ্ৰামীণ এলাকার দশম শ্রেণির এক ছাত্র বাইরে থেকে অত্যাধুনিক পিস্তল কিনে এনে নিজের কাছে রাখবে-এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। ওই ছাত্রের বাবা একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত এবং এলাকায় নেতা বলে পরিচিত। স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ হচ্ছে, ছেলেটি বাবার কাছে থাকা পিস্তল কোনওভাবে হাতিয়ে নিয়েছে।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেন, ওই ছাত্রের বাবা আমাদের দলের সমর্থকও কি না, সেটা খোঁজ নিয়ে দেখছি। শিক্ষাঙ্গনে এমন ঘটনা কাঙ্খিত নয়। ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার। সেটা বজায় রাখতেই হবে।  প্রতীকী ছবি

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ