নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: কালীপুজো মিটেছে আগেই। রাস উৎসবও শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু হাল ফিরল না শান্তিপুরের বিসর্জন ঘাটগুলির। উৎসব শেষ, ভিড় উচ্ছ্বাস স্থিমিত, কিন্তু জলাশয়ে এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে ভাসছে প্রতিমার কাঠামো। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মতিগঞ্জ নয়ানজুলি ঘাটসহ শহরের বিভিন্ন বিসর্জন ঘাটে দেখা গেল, রাসের প্রতিমার কাঠামোর পাশাপাশি কালীপুজোর কাঠামোও ভাসছে জলে। যা উৎসবের রেশ নয়, প্রশাসনিক উদাসীনতার চিহ্ন।
পরিবেশ দূষণ রোধে সরকার বার বার কড়া নির্দেশিকা জারি করছে। ধর্মীয় উৎসবের পর কাঠামো তোলাতে জোর দেওয়া হচ্ছে সব স্তরেই। কিন্তু মাঠে নেমে ছবি বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা। রাস নিরঞ্জনের তিন দিন পরেও ঘাটজুড়ে প্রতিমার কাঠামো, ফুল, বেলপাতা, কাপড় সহ নানা পচনশীল বস্তু ভাসতে দেখা গিয়েছে। স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীদের বক্তব্য, উৎসব শেষ হলেই প্রশাসনের নজর সরে যায়। অথচ জলাশয় দূষণ বাড়লে তার প্রভাব পড়বে মাছ, জলের প্রাণী থেকে সাধারণ মানুষের উপরও।
মতিগঞ্জ নয়ানজুলি, শহরের সবচেয়ে ব্যস্ত ও বড় নিরঞ্জন ঘাট। বারোয়ারি থেকে বাড়ির ঠাকুর, সব প্রতিমা এখানেই নিরঞ্জন করা হয়। সোমবারও সেই ঘাটে ভাসমান কাঠামো এত বেশি ছিল যে আঙুলে গোনা দায়। পাশাপাশি বড়বাজার, কৃষ্ণ কালীতলা ঘাটেও একই চিত্র। নদীর জলে দৃষ্টিনন্দন প্রতিমার জায়গায় রয়ে গিয়েছে কাঠামো আর পুজোর অবশেষের স্তূপ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সমস্যা নতুন নয়। দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে কালীপুজো, এমনকী সদ্য সমাপ্ত রাস, প্রতিবারই নিরঞ্জনের পর কাঠামো তোলা নিয়ে গড়িমসি করে পুরসভা। প্রথমদিন কিছু কাঠামো তোলে, তারপর বাকিগুলো পড়েই থাকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ। পরিবেশকর্মীদের একাংশের মন্তব্য, এটা শুধু অসচেতনতা নয়, এটা প্রশাসনিক ব্যর্থতা।
তবে অভিযোগ খারিজ করেছে পুরসভা। তাদের দাবি, রাস নিরঞ্জনের পর থেকে পরিষ্কারের কাজ চলছে। পুরসভার এক কর্তা বলেন, আমাদের টিম নিয়মিত কাঠামো তুলছে। কিছু বাকি থাকলে দ্রুত সরিয়ে ফেলা হবে। দূষণ রোধে প্রশাসন সর্বদা সজাগ। উৎসবের আলো নিভে গেছে, রাসের শিল্প-ঐতিহ্য জমা হয়েছে স্মৃতির পাতায়। কিন্তু জলাশয়ের জলে ভাসমান কাঠামোগুলি যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে সচেতনতা আর দায়িত্ববোধের উৎসব এখনও বাকি।