নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নীতীশ কুমারের দলে প্রথম বিদ্রোহের আভাস। বিহারে বিধান পরিষদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীর বিরোধিতায় আসরে নামলেন জেডিইউ বিধায়ক অনন্ত সিং। এতেই সামনে চলে এসেছে সংযুক্ত জনতা দলের অন্দরে প্রবল অশান্তির আঁচ। মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে নীতীশ সরে যাওয়ার পর থেকেই নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে জেডিইউ। কারণ, নীতীশ রাজ্যসভার সদস্য হয়ে গিয়ে কার্যত গৃহবন্দি হয়ে রয়েছেন। সেরকম কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা যায় না। নীতীশ-পুত্র নিশান্তকে বিহার সরকারের মন্ত্রী করার পর দলের পক্ষ থেকে বহু চেষ্টা হচ্ছে তাঁকেই জেডিইউর পরবর্তী সুপ্রিমো হিসাবে গড়ে তুলতে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই প্রয়াস ব্যর্থ। সেই ব্যক্তিত্ব, সাংগঠনিক ক্ষমতা অথবা নেতৃত্বপ্রদানের কুশলতা নেই নিশান্তের। এই পরিস্থিতিতে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ও জল্পনা প্রবল।
এরইমধ্যে প্রথম ধাক্কা দিলেন মোকামার বিধায়ক অনন্ত সিং। তিনি বাহুবলী নেতা হিসাবে পরিচিত। ভূমিহার সম্প্রদায়ের অনন্তকে তাঁর জাতিভুক্ত বিহারবাসী সম্বোধন করে ছোটে সরকার নামে। ভূমিহার নেতা বিহার রাজনীতিতে একাধিক থাকলেও ছোটে সরকারই যে তাদের সম্প্রদায়ের রক্ষাকর্তা, এই প্রচার ও আস্থা বিহারে প্রবল। তাই মোকামার বিধায়ক হয়েই তিনি আবদ্ধ নেই। তাঁর প্রভাব যথেষ্ট। সেই অনন্ত বিধান পরিষদ ভোটে নিজের দলের প্রার্থী নীরজ কুমার সিংকে সমর্থন করছেন না। উলটে তিনি প্রশান্ত কিশোরের দলের প্রার্থীকে সমর্থনের ডাক দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি নিজেই জন সুরাজ পার্টির প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার মিছিলে যোগ দিয়ে সক্রিয়ভাবে প্রচারে নেমে বলেন, আমাদের দলের প্রার্থী পরাজিত হবে। জন সুরাজ জয়ী হবে ৫০০ শতাংশ। প্রশান্ত নিজে বাঁকেপুর বিধানসভা ভোটে জয়ী হয়ে দলের প্রথম বিধায়ক হয়েছেন। এবার কি দ্বিতীয় বিধায়ক পেতে চলেছেন তিনি? অনন্তর ডাকে যদি জেডিইউ সমর্থকদের একাংশ সাড়া দেয়, তাহলে সম্ভাবনা রয়েছে। পাটনা গ্র্যাজুয়েট কেন্দ্রে এই বিধান পরিষদ নির্বাচন হবে। প্রসঙ্গত বিধান পরিষদের গ্র্যাজুয়েট কেন্দ্রের ভোট প্রক্রিয়া হল ওই কেন্দ্রের ভোটার হলেও শুধুমাত্র স্নাতক হলেই ভোট দেওয়া যাবে।
এমনিতে ঘরে বাইরে দিশাহারা বিজেপি। একদিকে নির্বাচন কমিশনের অন্দরের অনিয়ম তথা ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে রাহুল গান্ধী, ইন্ডিয়া জোট এবং ককরোচ জনতা পার্টির ত্রিফলা আক্রমণ একপ্রকার নাস্তানাবুদ করে দিতে রাস্তায় নেমেছে। আবার অন্যদিকে যে সময় সবথেকে বেশি প্রয়োজন এনডিএ জোটের শক্তি, সেই সময় জোটে ফাটলের বার্তা। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ঠিক যে সুরে বিরোধীরা তোপ দাগছে, সম্প্রতি বিহারের জোটশরিক লোক জনশক্তি পার্টির (রামবিলাস) নেতা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান সেই সুরেই যেমন সমালোচনা করেন। তেমনই আবার বিহারের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বিরোধীদের থেকেও তিনি কড়া সুরে সমালোচনা করেছেন। আবার তারই মধ্যে অনন্তর বিদ্রোহ। অতএব এনডিএ সংসার সুখে নেই।