নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: জাপানি এনসেফেলাইটিস (জেই) রুখতে বুধবার জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের বৈঠকে কড়া বার্তা দেওয়া হল। রাজ্যের উপ স্বাস্থ্য অধিকর্তা তাপস রায়, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (হু) কো-অর্ডিনেটর তারক সৌরভের উপস্থিতিতে এদিন জলপাইগুড়িতে বৈঠক হয়।
মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসীম হালদার সহ বৈঠকে হাজির ছিলেন বিভিন্ন স্তরের স্বাস্থ্য আধিকারিক ও কর্মীরা। বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জেলায় ইতিমধ্যেই জেই’তে পাঁচজন আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। এর মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে জেই আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যাতে কোনওভাবে আর না বাড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দ্রুত প্রয়োজনীয় টেস্টের ব্যবস্থা করতে হবে।
শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের পাশাপাশি জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে জাপানি এনসেফেলাইটিসের টেস্ট চালু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে কতজনের জেই টেস্ট হয়েছে, সে ব্যাপারে তথ্য দিতে নারাজ জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। দপ্তর সূত্রে খবর, অ্যাকিউট এনসেফেলাইটিসে আক্রান্ত কয়েকজনের খোঁজ মিলেছে। তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসীম হালদার বলেন, জেই নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে আমরা লিফলেট বিলি করছি। অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
জলপাইগুড়িতে জেই ছড়ানোর পর শুয়োরের খামার বন্ধে প্রথমে অভিযান চালালেও সেই সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত পিছু হটেছে প্রশাসন। ঠিক হয়েছে, মশারি দিয়ে শুয়োরের খাটালগুলি ঘিরে দেওয়া হবে। তবে জলপাইগুড়ি শহর, করলা নদীর পাড় সহ চা বাগান এলাকায় শুয়োর পালন কীভাবে ঠেকানো সম্ভব, সেটাই এখন ভেবে পাচ্ছে না জেলা প্রশাসন।
এদিকে, জাপানি এনসেফেলাইটিসের থাবার মধ্যেই জলপাইগুড়ি জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দু’শো ছাড়াল। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, চলতি বছরে এদিন পর্যন্ত জেলায় ২০১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৭২। স্ক্রাব টাইফাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯ জন। চিকুনগুনিয়াতেও আক্রান্ত বেশকয়েকজন।
এদিনের বৈঠকে বলা হয়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে কারও মধ্যে জ্বর সহ জেই’র অন্যান্য উপসর্গ রয়েছে কি না, তা দেখতে হবে। সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, স্ক্রাব টাইফাস কিংবা জেই ঠেকানো যে সম্ভব নয়, তা স্বীকার করে নিয়েছেন জেলার স্বাস্থ্যকর্তারা। জলপাইগুড়িতে স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তারা। - নিজস্ব চিত্র।