নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান এবং সংবাদদাতা, কাটোয়া: বোধনের আগে মঙ্গলকোটে মঙ্গলের ছবি। রাজ্য নেতৃত্ব মিলিয়ে দিল সব পক্ষকেই। খুলে গেল বন্ধ থাকা পার্টি অফিসের তালা। এটাই যেন চাইছিলেন কর্মীরা। সেই কারণে খুশিতে তাঁরা সবুজ মিষ্টি বিলি করলেন। এখন আর দ্বন্দ্বের কথা নয়, সব নেতার মুখেই শোনা গেল ‘লিড’ বাড়ানোর হুঙ্কার। নিলেন এক সঙ্গে পথ চলার শপথ। এক বছর ধরে বন্ধ থাকা পার্টি অফিস খোলার পর নেতারা একে অপরের হাত ধরলেন। যদিও কলকাতার বৈঠকের পর ঐক্যর ছবি কয়েক দিন আগে অন্য আরেকটি মঞ্চেও দেখা গিয়েছিল। সব পক্ষের নেতারা মঞ্চ থেকে চেক বিলি করেছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই রাজ্য নেতা সুব্রত বক্সি ও জয়প্রকাশ মজুমদারের উপস্থিতিতে কলকাতায় বৈঠক হয়। সেখানে মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদ সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার, পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক চন্দন সরকার, পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন। সেখানেই নতুনহাটে পার্টি অফিস খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিন বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক চন্দন সরকারকে নিয়ে তালা খুলতে যান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার, প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য বিকাশ চৌধুরী সহ অন্যান্য নেতারা। এদিন বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী বলেন, অশান্তির জেরে পুলিশ পার্টি অফিস বন্ধ করেছিল। আমরা রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে সেটা খুলে দিয়েছি। দলে কোনও দ্বন্দ্ব নেই। সবাইকে একসঙ্গে চলার বার্তা দিয়েছে রাজ্য নেতৃত্ব। ভোটের লিড যাতে বাড়ে তার জন্য এবার সবাইকে ঝাঁপাতে হবে।
প্রসঙ্গত, শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর কাজিয়ায় মঙ্গলকোটে গোলমাল হয়েছিল ২০২৪ সালের ২৪ মে। তখুনি পার্টি অফিস বন্ধ করে দেয় পুলিশ। মঙ্গলকোটের নতুনহাট থানা ও গ্রামীণ হাসপাতালের মাঝে তৃণমূলের একটি দোতলা পার্টি অফিস রয়েছে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বসতেন মঙ্গলকোট পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান তথা বর্তমান দলের জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক চন্দন সরকার ওরফে শান্ত। শান্ত সরকার ও দলের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী মধ্যে ২০২১ সাল থেকেই দূরত্ব তৈরি হয়। সেই কাজিয়া পরবর্তীকালে প্রকট হয়। কয়েকদিন আগে বৈঠকের পরেই সেই কাজিয়া মিটে যায়। এমনকী কয়েকদিন আগেই জেলার সাংগঠনিক রদবদল ঘটে। মঙ্গলকোটে ব্লক সভাপতির পদে রদবদল ঘটেনি। তারপরেই তালা খোলা হল। এদিন শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, আমরা দলের অনুগত সৈনিক। দলের নির্দেশ সব সময় মেনে চলব। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য নেতৃত্ব সব ব্লকের নেতাদেরই দ্বন্দ্ব মেটানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছে। শৃঙ্খলা না মানলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।