Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাম শ্রমিক সংগঠনের ডাকা ধর্মঘট জেলায় কোনও প্রভাব পড়ল না

১০টি কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনের ডাকা সাধারণ ধর্মঘটে বীরভূম জেলায় সেভাবে প্রভাব পড়ল না। অন্যান্য দিনের মতো বুধবার সিউড়ি সহ সর্বত্র স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে অফিসে স্বাভাবিক কাজকর্ম হয়।

বাম শ্রমিক সংগঠনের ডাকা ধর্মঘট জেলায় কোনও প্রভাব পড়ল না
  • ১০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ১০টি কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনের ডাকা সাধারণ ধর্মঘটে বীরভূম জেলায় সেভাবে প্রভাব পড়ল না। অন্যান্য দিনের মতো বুধবার সিউড়ি সহ সর্বত্র স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে অফিসে স্বাভাবিক কাজকর্ম হয়। জেলার তিনটি মহকুমাতেই বাজারহাট ও দোকানপাট খোলা ছিল। পাথর পাথর শিল্পাঞ্চলেও কোনও আঁচ পড়েনি। সরকারি বাস চললেও বেসরকারি বাস খুব একটা পথে নামেনি। ট্রেন চলাচলও ছিল স্বাভাবিক। রামপুরহাট স্টেশনে জোর করে ঢুকে ট্রেন বন্ধ করতে গেলে বাম ও কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে রেলপুলিসের ধস্তাধস্তি হয়। আইনজীবীদের একাংশ উপস্থিত না হওয়ায় আদালত চত্বর প্রায় ফাঁকা ছিল। সাধারণ ধর্মঘট সফল হয়েছে বলে বামেদের দাবি। 

Advertisement

এদিন দুবরাজপুরে বাম কর্মী-সমর্থকরা ধর্মঘটের সমর্থনে মিছিলে শামিল হন। মিছিল চলাকালীন একাধিক জায়গায় দলীয় পতাকা লাগানো হয়। রামপুরহাটের কামারশাল মোড়ে কিছুক্ষণ রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন বাম কর্মী-সমর্থকরা। সকালে রামপুরহাটে এসবিএসটিসির ডিপোর সামনে জড়ো হয়েছিলেন বাম ও কংগ্রেস কর্মীরা। সরকারি বাস চলাচলে বাধা দেওয়া হয়। এনিয়ে পুলিসের সঙ্গে কথা কাটাকাটিও হয়। যদিও মিছিল চলে যেতেই সরকারি বাস পরিষেবা স্বাভাবিক হয়। ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধ করতে বলেন ধর্মঘটীরা। তাতে কিছু ব্যবসায়ী সাময়িক সাড়া দেন। কিন্তু মিছিল চলে যেতেই ফের দোকান খুলে দেন। রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম ১৪নম্বর জাতীয় সড়কের ভাঁড়শালা মোড়ে অবরোধ করা হলে বহু যানবাহন আটকে পড়ে। মিনিট দশেক পর অবরোধ তোলা হয়। পরে মিছিল করে এসে স্টেশনে ঢুকে ট্রেন অবরোধ করার চেষ্টা করা হয়। যদিও রেলপুলিস তাদের গেটেই আটকে দেয়। এনিয়ে বাম-কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরে তারা গেটের মুখে বসে কিছুক্ষণ অবস্থান বিক্ষোভ করে ফিরে আসেন। মল্লারপুর ও নলহাটির কাঁটাগড়িয়া মোড় কিছুক্ষণের জন্য জাতীয় সড়ক অববোধ করেন বাম-কংগ্রেস কর্মীরা।
বোলপুরে মহকুমায় ধর্মঘট সফল করতে পথে নেমে হেনস্তার শিকার হন নানুরের প্রাক্তন বিধায়ক শ্যামলী প্রধান। তৃণমূল কর্মীরা চড়াও হয় বলে অভিযোগ। কীর্ণাহার থানার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ধর্মঘটের সমর্থনে পথে নামেন বাম কর্মী-সমর্থকরা। শ্যামলীদেবী বক্তব্য রাখছিলেন। অভিযোগ, সেসময় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা তাঁদের উপর চড়াও হয়। দলীয় পতাকা কেড়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রতিবাদ করতে গেলে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা ধর্মঘটীদের মারধর করে। শ্যামলীদেবীকে হেনস্তা করা হয়। পুলিসের সামনে এই ঘটনা ঘটলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। এমনকী, এক সাংবাদিককে মারধর করে মোবাইল ভেঙে দেওয়া হয়। বোলপুরের জামবুনি বাসস্ট্যান্ডে টায়ার জ্বালিয়ে ধর্মঘটে নামেন সিপিএমের কর্মী-সমর্থকরা।  শ্যামলীদেবী বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে করা ধর্মঘটে তৃণমূলের কেন গাত্রদাহ হচ্ছে বুঝতে পারছি না। আমাদের যেভাবে নিগ্রহ করা হয়েছে তার ধিক্কার জানাই। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যেই কীর্ণাহার থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। 
সিটুর বীরভূম জেলা সাধারণ সম্পাদক তথা সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য দীপঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, সাধারণ ধর্মঘটে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হয়েছিল। যদিও জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির চেয়ারপার্সন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই ধর্মঘট জেলায় কোনও সাড়া পড়েনি। জনজীবন স্বাভাবিক ছিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ