Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তারাপীঠ মন্দিরে ‘টাকার খেলা’ বন্ধে কড়া পদক্ষেপ, আশার আলো দেখছেন ভক্তরা

আগের নিয়ম মেনেই তারাপীঠ মন্দিরে পুণ্যার্থীরা পুজো দেবেন। মঙ্গলবার থেকে সেই নিয়ম চালু হয়েছে।

তারাপীঠ মন্দিরে ‘টাকার খেলা’ বন্ধে কড়া পদক্ষেপ, আশার আলো দেখছেন ভক্তরা
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: আগের নিয়ম মেনেই তারাপীঠ মন্দিরে পুণ্যার্থীরা পুজো দেবেন। মঙ্গলবার থেকে সেই নিয়ম চালু হয়েছে। সোমবার বিকেলে তারাপীঠ মন্দির কমিটির সঙ্গে বৈঠকে এমনই নির্দেশ দিয়েছেন রামপুরহাটের মহকুমা শাসক অশ্বিন বি রাঠোর। কোনও বিশৃঙ্খলা মানা হবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। এতে পুজো দেওয়া নিয়ে ‘টাকার খেলা’ বন্ধ হবে বলে আশাবাদী পুণ্যার্থীরা।

Advertisement

প্রসঙ্গত, দূরদূরান্ত থেকে তারাপীঠে পুজো দিতে এসে নানাভাবে হেনস্তা ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছিল ভক্তদের। অভিযোগ, পান্ডাদের একাংশ চটজলদি দেবী দর্শন ও পুজোর ব্যবস্থা করার বিনিময়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো টাকা দাবি করছিলেন। যার ফলে সাধারণ লাইনের পুণ্যার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে রাখা হচ্ছিল। এতে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছিল। অভিযোগ পেয়ে গত ডিসেম্বর মাসে পূর্বতন জেলাশাসক বিধান রায় সেবাইতদের নিয়ে মিটিং করে বলেছিলেন, এমনটা হতে থাকলে ট্রাস্টি করে দেওয়া হবে। তিনি ঠিক করে দিয়েছিলেন, প্রথম এক ঘণ্টা সাধারণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা পুণ্যার্থী প্রবেশ করানো হবে। পরে বিশেষ লাইনে থাকা ভক্তদের প্রবেশ করানো হবে। এভাবেই নির্দিষ্ট সময় অন্তর সাধারণ ও বিশেষ লাইনে থাকা ভক্তদের গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। বিশেষ লাইনে পুজো দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই মন্দির কমিটির অফিস থেকে ৫০০ টাকার কুপন সংগ্রহ করতে হবে। কিছুদিন এই নিয়মে মন্দির চলে। পরে ফের টাকার খেলা শুরু হয়ে যায়। অভিযোগ, কয়েকজন পান্ডা জেলাশাসকের নির্দেশ অমান্য করে দেবী দর্শনের বিনিময়ে টাকা দাবি করছেন। বিষয়টি জানার পর গত ১৭ নভেম্বর মন্দির কমিটিকে ডেকে কঠোর হাতে বন্ধ করার নির্দেশ দেন মহকুমা শাসক। কিন্তু, তারপরও চলছিল টাকার খেলা। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রশাসনিক কর্তারা। ওইদিন এসডিওর সভাকক্ষে মন্দির কমিটির সঙ্গে বৈঠকে মহকুমা শাসক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এসব চলবে না। পূর্বের ঠিক করে দেওয়া নিয়মেই চলতে হবে। সেই সঙ্গে গর্ভগৃহে দেবী দর্শনের পর যে দিক দিয়ে পুণ্যর্থীরা বেরিয়ে আসবেন, সেদিক দিয়ে অন্য পুণ্যার্থী প্রবেশ করানো যাবে না। তাতে সায় দেয় মন্দির কমিটি। 
মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, আগের জেলাশাসক যে নিয়ম করে দিয়েছিলেন, সেই নিয়মই মানা হবে। যাঁরা স্থানীয়রা আধারকার্ড দেখালে ফ্রি পাশ পাবেন। শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গর্ভগৃহে ভক্তদের অঞ্জলি ও শৃঙ্গার পুজো আর করতে দেওয়া যাবে না। এতে সুস্থভাবে পুজোর লাইন চলবে। গর্ভগৃহের বাইরে দেবীর চরণে পুজো অর্পণ করতে পারবেন ভক্তরা। তবে, অনেকেই বলছেন, এর আগেও গর্ভগৃহে পুজোপাঠ নিষিদ্ধ করেছিল মন্দির কমিটি। কিন্তু, পান্ডাদের একাংশই টাকার লোভে পুণ্যার্থীদের গর্ভগৃহে দাঁড় করিয়ে পুজো পাঠ ফের শুরু করে। যার ফলে পুজোর লাইন থমকে গিয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছিল। মহকুমা শাসক পবিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, মন্দির নিয়মে চলছে কি না, সেটা নজরে রাখার পাশাপাশি তিনি প্রতি মাসের ১তারিখ মন্দির কমিটির সঙ্গে রিভিউ মিটিংয়ে বসবেন। পুণ্যার্থীরাও জানিয়েছেন, প্রশাসনের ধারাবাহিক নজরদারি থাকলে টাকার খেলা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা কমবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ