নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ‘বর্তমান’-এর খবরের জেরে এবার উপযুক্ত নথিবিহীন অ্যাম্বুলেন্সের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের পরিকল্পনা করল শিলিগুড়ি আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তর। এপ্রিলের প্রথম থেকেই নথিবিহীন গাড়ি পেলে আইন অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কেউ গাড়ি চালালেও নেওয়া হবে কড়া পদক্ষেপ। তবে রাস্তাঘাটে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রোগীদের সমস্যার মুখে না ফেলে একাধিক জায়গায় শিবির করে সেগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখা হবে। মূলত উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শিলিগুড়ি হাসপাতাল এবং বেসরকারি হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্সের নথি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিলিগুড়ি আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তর। দার্জিলিং জেলার অতিরিক্ত আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিক বিশ্বজিৎ দাস বলেন, এপ্রিলের প্রথম থেকেই আমরা শিবির করে এধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামব। তবে রোগী বা তাঁদের পরিজনদের যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা হবে।
উল্লেখ্য, বারবার শিলিগুড়িতে দ্রুতগতিতে অ্যাম্বুলেন্স চালানোর অভিযোগ ওঠে একাংশ চালকদের বিরুদ্ধে। শুধুমাত্র লাগামছাড়া গতিতে অ্যাম্বুলেন্স চালানো হচ্ছে তা নয়, অকারণে হুটার বাজিয়ে শব্দদূষণ করা, গাড়িতে সরকারি নিয়ম মেনে ফার্স্ট এইড বক্স না রাখা, এমনকী রেজিস্ট্রেশন ফেল হয়ে যাওয়া গাড়ি নথি ছাড়াই চালানোর অভিযোগ উঠেছে চালকদের একাংশের বিরুদ্ধে। শুধুমাত্র তাই নয়, বেপরোয়া গতিতে অ্যাম্বুলেন্স চালানোর জন্য ছোট বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে। অকারণে হুটার বাজিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদ করলে অ্যাম্বুলেন্স চালকরা পাল্টা ঝগড়া শুরু করে দেন। সম্প্রতি এনিয়ে খবর প্রকাশিত হয় ‘বর্তমান’-এ। তারপরই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেন দপ্তরের আধিকারিকরা।
ট্রাফিক পুলিস জানিয়েছে, অনেক সময়ে মদ্যপ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স চালাতে গিয়ে তাদের হাতে আটক হয়েছেন অনেকেই। অনেক সময় মানবিকতার জন্য রেয়াত করা হয়। এবারে এই সকল অভিযোগকে খুব গুরুত্ব দিয়ে নিয়ে কড়া পদক্ষেপের দিকে যাচ্ছে পরিবহণ দপ্তর। তবে অকারণে হয়রানি নয়, বরং সহজ পদ্ধতিতে অ্যাম্বুলেন্স সমীক্ষা চালিয়ে সমস্ত বিষয়টিকে নিয়মে বেঁধে ফেলাই মূল লক্ষ্য দপ্তরের।