Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

পথকুকুর: রায় বদল সুপ্রিম কোর্টের, বন্ধ্যাত্বকরণে জোর, যত্রতত্র খাওয়ানোয় নিষেধাজ্ঞা

দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড়। আবেদনের বন্যা। হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে স্বয়ং দেশের প্রধান বিচারপতিকে। তার জেরে শেষপর্যন্ত পথকুকুরদের নিয়ে রায় বদল শীর্ষ আদালতের।

পথকুকুর: রায় বদল সুপ্রিম কোর্টের, বন্ধ্যাত্বকরণে জোর, যত্রতত্র খাওয়ানোয় নিষেধাজ্ঞা
  • ২৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০৫
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড়। আবেদনের বন্যা। হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে স্বয়ং দেশের প্রধান বিচারপতিকে। তার জেরে শেষপর্যন্ত পথকুকুরদের নিয়ে রায় বদল শীর্ষ আদালতের। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা ও বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, গত ১১ আগস্টের রায় ছিল ‘অত্যন্ত কঠোর’। তা কুকুরপ্রেমীদের আহত করেছে এবং দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এদিন নতুন রায়— টিকা ও বন্ধ্যাত্বকরণের পর আগের এলাকাতেই ফিরিয়ে দিতে হবে পথকুকুরদের। তবে র‌্যাবিসে আক্রান্ত ও আক্রমণাত্মক কুকুরদের আলাদা করে শেল্টারে রাখার নির্দেশ দেওয়াহেয়েছে। রাস্তাঘাটে যত্রতত্র পথকুকুরদের খাওয়ানোর বিষয়েও জারি হয়েছে শর্ত। প্রতিটি ওয়ার্ডে পুরসভার নির্দিষ্ট করা জায়গাতেই কুকুরদের খাওয়াতে হবে। অন্যথায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন। পথকুকুরদের নিয়ে জাতীয় স্তরে নীতি তৈরির ভাবনাচিন্তা চলছে। এবিষয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রশাসনের মতামত চেয়ে নোটিস দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তিন বিচারপতির বেঞ্চ আরও জানিয়েছে, শীঘ্রই গোটা দেশে এই রায় প্রযোজ্য হবে। একইসঙ্গে বিভিন্ন হাইকোর্টে পথ কুকুর সংক্রান্ত যাবতীয় পিটিশন সুপ্রিম কোর্টে স্থানান্তরিত করা হবে।

Advertisement

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে দেশের প্রথম সারির পশুপ্রেমী সংগঠন ‘পেটা’। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘মানুষের নিরাপত্তা ও পশুকল্যাণের সামঞ্জস্য বিধানের জন্য শীর্ষ আদালতের রায় এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।’ রায়কে স্বাগত জানিয়ে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা পশু-অধিকার কর্মী মেনকা গান্ধীর আর্জি, ‘আক্রমণাত্মক’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, তা যেন ব্যাখা করা হয়। দিল্লিতে জলাতঙ্ক ও পথকুকুরদের কামড়ানোর ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জেবি পার্দিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, দিল্লির লোকালয় থেকে পথকুকুরদের সরিয়ে নির্দিষ্ট আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। এই কাজে কোনও আপস করা যাবে না। কোনও সংগঠন বাধা দিলে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। শীর্ষ আদালতের এই রায়ের পরই দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার এই মামলায় তিন বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘যথেষ্ট পরিকাঠামো ছাড়া সকল পথকুকুরদের শেল্টারে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সাফল্যের মুখ দেখবে না। ফলে জারি হওয়া নির্দেশ শিথিল হওয়া প্রয়োজন।’ পথকুকুরদের দত্তক নেওয়ার ব্যাপারেও উৎসাহ দেখিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে এও জানিয়েছে, ওই কুকুররা যাতে কোনওভাবেই ফের পথে না ফিরে যায়, তা নিশ্চিত করা দরকার। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ