নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: শোবার ঘর নিশ্চিহ্ন। চৌকির উপরে হেলে আছে সিমেন্টের পিলার। চারপাশে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া টিন, ভাঙা আসবাবপত্র, গাছের ডাল ছড়ানো। ঝড়ের ৪৮ ঘণ্টা পর শুক্রবারও এমনই ছবি ধরা পড়েছে খড়িবাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামে। শুধু তাই নয়, সর্বত্র বিদ্যুৎ পরিষেবা এখনও স্বাভাবিক হয়নি। এর প্রতিবাদে এদিন রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি। সংশ্লিষ্ট এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় অবরোধকারীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের বন ও ভূমি স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ কিশোরীমোহন সিংহ।
এদিকে, ৩০ মিনিটের ওই ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে প্রশাসন। তাদের প্রাথমিক হিসেব অনুসারে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক কোটি টাকারও বেশি। সেই তালিকায় আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি, গবাদি পশুর মৃত্যু, গাছ, বিদ্যুৎ প্রভৃতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এদিন এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট পাঠিয়েছে খড়িবাড়ি ব্লক প্রশাসন।
ঝড়ের তাণ্ডবে খড়িবাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলির মধ্যে রাঙালি অন্যতম। এখানেই অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বৃদ্ধা পানসারা বর্মন। কৃষ্ণচূড়া গাছ পড়ে তাঁর শোবার ঘর গুঁড়িয়ে গিয়েছে। এখন জরাজীর্ণ রান্নাঘরের চালে ত্রিপল টাঙিয়ে রাত কাটাচ্ছেন তিনি। নিশ্চিহ্ন শোবার ঘরের চৌকিতে বসে এদিন তিনি বলেন, ঝড়ের পর থেকে ছেলে প্রতিবেশীর বাড়িতে রাত কাটাচ্ছে। আমি ভিটেমাটি আগলে পড়ে আছি। কবে ঘর তৈরি করতে পারব তা জানি না।
রাঙালি, হাতিডোবা, কুচিয়াজোত, দেওয়ানভিটা প্রভৃতি গ্রামে এমন আরও কিছু বাসিন্দা গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। এদিন তাঁদের অনেকে বাঁশ, কাঠ ও ত্রিপল দিয়ে ঘর মেরামত করছিলেন। রাস্তা পাশে, বাড়ির উঠোনে ছড়ানো আম, কাঁঠাল, কৃষ্ণচূড়া, শিশু প্রভৃতি গাছ এবং ভাঙা চেয়ার, টেবিল, টিন ছড়িয়ে রয়েছে। সকলেরই বক্তব্য, সরকার সহায়তা না করলে বেকায়দায় পড়তে হবে। ভারী বর্ষায় ভাঙা বাড়িতেই থাকতে হবে।
বিদ্যুৎবণ্টন কোম্পানি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৩৫টির বেশি টিম কাজ করছে। হাইটেনশন লাইন স্বাভাবিক হয়েছে। খুব দ্রুত পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বুধবার গভীর রাতে ঝড়ের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় খড়িবাড়ি ব্লকের বুড়াগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতে ছ’টি গ্রাম। প্রশাসন সূত্রে খবর, ঝড়ে পুরোপুরিভাবে ৩৪টি এবং আংশিকভাবে সাতটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে চারটি গবাদি পশুর। দু’টি পোলট্রি ফার্ম, দু’টি স্কুল, কিছু রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গিয়েছে। মহকুমা পরিষদের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষের ধারণা, সবমিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়াবে। বিডিও দীপ্তি সাউ বলেন, ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে একটি রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। এখন তারা যা নির্দেশ দেবে সেই মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি সূত্রে খবর, তাদের এই ঝড়ে ক্ষতি হয়েছে।