শান্তনু দত্তগুপ্ত: কী বলা যায় একে? রাজনৈতিক ধান্দাবাজদের গালে চপেটাঘাত? ২৬ হাজার যুবক-যুবতীর চাকরি চলে যাওয়ায় উল্লাস তো কম ছিল না তাঁদের। কারণ, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ওই ধান্দাবাজরা স্রেফ রাজনৈতিক স্বার্থ দেখেছিলেন। পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনার মতো এই রায়কে আঁকড়ে ধরে ভোটের ইস্যু তৈরি করতে চেয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু তাঁদের ফাঁকা কলসির বাজনায় গুরুত্ব দেননি। ঠান্ডা মাথায় চাকরিহারাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শীর্ষ আদালতে আবেদন করেছেন। এবং হাজার হাজার যোগ্য শিক্ষকদের জন্য ন্যায়বিচার নিয়েও এসেছেন। এতে শুধু যে ওই চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্বস্তি পেয়েছেন, এমনটা নয়। অগুনতি স্কুলপড়ুয়ারও ধড়ে প্রাণ এসেছে। কয়েকজন মার্কামারা ধান্দাবাজের রাজনৈতিক ধ্যাষ্টামোয় তাদের পঠনপাঠনই নয়, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাটাই যে লাটে উঠতে বসেছিল! আজকের রায় সেই ধান্দাবাজদের থোঁতা মুখ ভোঁতা করে দিয়েছে। যাঁরা ভেবেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পেড়ে ফেলেছি। এই ইস্যু দিয়েই ভোটে বাজিমাত করব... তাঁদের কিন্তু আজ ল্যাজ গুটিয়ে পালানোর মতো অবস্থাও নেই।
আঁতে খুব লাগছে? এতদিন তো আপনাদের ভাবটা এমন ছিল যে, চাকরি গিয়েছে, তো কী! ওদের জন্য না হয় একটু আহা-উঁহুঁ করে দেব। রাজনৈতিক মশলার জোগান থাকলেই হবে। এদিনের রায়ে একটা বিষয় স্পষ্ট—ভোটের ধান্দাবাজিটাও এইসব বালখিল্য, সস্তার রাজনীতিবিদদের দিয়ে হয় না। কী যেন নাম? কী একটা গঙ্গোপাধ্যায় বোধহয়। ডায়ালগেই শিরোনাম— ‘ঢাকিসুদ্ধ বিসর্জন দেব।’ সে এক দারুণ হিট ডায়ালগ। ঘরে বাইরে আলোচনা। কথাও রেখেছিলেন। গোটা প্যানেল বাতিলের। কারা যেন সব আপনাকে ‘ভগবান’ ভেবে নিয়ে মাথায় বসিয়েছিল? তারা কি সেদিন বুঝেছে, আপনি আসলে রাজনীতি করছিলেন? বীজটা বপন করেছিলেন আপনি সেদিনই? কীসের বীজ? ঘৃণার। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাটাকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার। বিচারপতির আসনে বসার আগে শপথ নিয়েছিলেন না আপনি? তার প্রধান প্রতিপাদ্য কী ছিল? নিরপেক্ষতার ঊর্ধ্বে কিচ্ছু নয়। একজন নির্দোষও যেন শাস্তি না পায়। আর আমরা কী দেখলাম? আপনি রাজ্যের ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকাকে পথে বসিয়ে দিলেন। আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা আপনাদের মতো ভণ্ডামির চাদর গায়ে দেওয়া নেতাদেরই তেল দিয়ে থাকি। ভুলে যাই, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস বা তৃণমূল—দলের নাম যা খুশি হতে পারে। সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার আপনাদের কেউ দেয়নি। মানুষকে ঘুঁটি বানিয়ে স্বার্থসিদ্ধির থলে ভরাটা আসলে ‘ভদ্রলোকের চুরি’। আমরা সেটা দেখেও দেখি না। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো আপামর রাজনৈতিক স্বার্থজীবী তাই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করতে পারেন, ‘যাঁরা অযোগ্য তাঁদের চাকরি আমি খেয়েছিলাম। আপাতত তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের সামান্য অর্ডারে বেঁচে আছেন। আশা করছি, খুব শীঘ্রই তাঁরা মারা যাবেন।’



