Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চোরাই বাইক ভুয়ো নথিতে বিক্রি বাজারে! রানিগঞ্জ-গিরিডি আন্তঃরাজ্য চুরি চক্রের দুই পাণ্ডা গ্রেপ্তার

ঝকঝকে বাইক নিয়ে রানিগঞ্জের নবিনগর চষে বেড়াচ্ছিল মহম্মদ মুস্তাফা ওরফে রাজন। নম্বর প্লেটটি নদীয়ার জেলার

চোরাই বাইক ভুয়ো নথিতে বিক্রি বাজারে! রানিগঞ্জ-গিরিডি আন্তঃরাজ্য চুরি চক্রের দুই পাণ্ডা গ্রেপ্তার
  • ২৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানিগঞ্জ: ঝকঝকে বাইক নিয়ে রানিগঞ্জের নবিনগর চষে বেড়াচ্ছিল মহম্মদ মুস্তাফা ওরফে রাজন। নম্বর প্লেটটি নদীয়ার জেলার। ঝলকে দেখলে সন্দেহ না হাওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু, বাইকটি চোরাই। ঝাড়খণ্ডের গিরিডি থেকে চুরি হয়। তারপর আন্তঃরাজ্য চক্রের হাত ধরে সেটি আসে রানিগঞ্জে। বদলে যায় নম্বর প্লেট। পুলিস খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, একই নম্বরের নদীয়াতেও বাইক রয়েছে। হদিশ মিলেছে রানিগঞ্জ-গিরিডি আন্তঃরাজ্য বাইক চুরি চক্রের। তদন্ত চালিয়ে এখন পর্যন্ত দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে রানিগঞ্জ থানার পুলিস। উদ্ধার হয়েছে পাঁচটি বাইক। রানিগঞ্জ থানার আইসি বিকাশ দত্ত বলেন, ‘আমরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।’ 

Advertisement

গত ১০ জুলাই রানিগঞ্জ রবিনসন স্টেডিয়াম এলাকার বাসিন্দা প্রসেনজিৎ রুজ থানায় এসে অভিযোগ করেন বিকেলে তাঁর বাড়ির সামনে থেকে বা‌ইক চুরি হয়ে গিয়েছে। ১৮ জুলাই একই কাণ্ড ঘটে রানিগঞ্জের পাঞ্জাবি মোড়ে এসবিআই এটিএমের সামনে। শান্তনু মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির বাইক উধাও হয়ে যায়। দু’টি ক্ষেত্রে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিস একজনকে চিহ্নিত করে। তার নাম ফায়জান আনসারি। একুশের কাছাকাছি বয়স। বাড়ি ঝাড়খণ্ডের মুগমায়। আনসারিকে ধরতে তক্কে তক্কে ছিল পুলিস। রানিগঞ্জে তৃতীয় অপারেশন করতে গিয়েই ধরা পড়ে যায় পুলিসের হাতে। জেরায় উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আনসারি জানায়, তারা একটি বাইক চুরি করে দালালকে বিক্রি করে পাঁচ হাজার টাকা পায়। দালাল সেই গাড়িকে ‘বৈধ’ বানিয়ে বেশি টাকায় বিক্রি করে। পুলিস আরও জানতে পারে, রানিগঞ্জ ও গিরিডির মধ্যে চোরাই বাইক পাচারের একটি চক্র তৈরি হয়েছে। রানিগঞ্জে  বাইক চুরি করে তা গিরিডি নিয়ে চলে যাওয়া হচ্ছে। আবার গিরিডি এলাকায় চুরি হওয়া বাইক রানিগঞ্জের দালালদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এরপরই পুলিস ফয়জানকে নিয়ে  গিরিডিতে অভিযান চালায়। সেখানে রানিগঞ্জ থেকে খোয়া যাওয়া দু’টি বাইকের পাশাপাশি আরও একটি চোরাই বাইক উদ্ধার করে। বাইক দালালের ডেরা থেকে বাইকগুলি উদ্ধার হলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। এরপর ফরজানকে নিয়ে রানিগঞ্জের চোরাই বাইক রাখার ডেরায় হানা দেয়। সেখান থেকে দু’টি বাইক উদ্ধার হয়েছে। যেগুলি গিরিডি থেকে আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে মহম্মদ মুস্তাফাকে। সে নিজেও একটি চোরাই বাইক ব্যবহার করছিল। 
পুলিস জানিয়েছে, বাইক চোরদের কাছে থাকছে মাস্টার কি। যে সব বাইকের লক পুরনো হয়ে গিয়ে ‘কি হোল’ বড় হয়ে গিয়েছে, মূলত সেই বা‌ইক গুলিকেই টার্গেট করা হয়। তাতেই সহজে মাস্টার কি লাগিয়ে বাইক স্টর্ট করা যায়। পুলিসের পরামর্শ, বাইকের চাবি পুরনো হয়ে গেলে পরিবর্তন করুণ।  কিন্তু পুলিসের মাথা ব্যাথা অন্য জায়গায়। যদি একবার পুরনো বাইক বিক্রির দোকান গুলিতে চোরাই বাইক বিক্রি শুরু হয়ে যায়, তা হলে এই অপরাধ মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে যাবে। সোশ্যাল মিডিয়া খুল঩লেই সস্তায় পুরনো বাইক বিক্রির অফার। রাস্তাঘাটেও পুরনো বাইক বিক্রির দোকান ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে। এই বাইক আসছে কোথা থেকে সেই প্রশ্ন উঠছে। আগে চোরাই বাইক কয়লা চুরিতে ব্যবহৃত হতো। এখন তাই যদি ভুয়ো নথির মাধ্যমে খোলা বাজারে বিক্রি শুরু হয়, তাতে সাধারণ মানুষের প্রতারণার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ