নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন পঞ্চায়েতে ব্যাপক বদলি শুরু হয়েছে। শুক্রবার জেলা প্রশাসনের তরফে পঞ্চায়েতের চারটি পদের ৭২জন কর্মীর বদলির নির্দেশিকা জারি হয়। এনিয়ে কর্মীমহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূল প্রভাবিত কর্মচারী সংগঠনের তরফে ওই বদলি নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে।
প্রশাসনের একটি সূত্রে খবর, সম্প্রতি বড়জোড়া সহ কয়েকটি পঞ্চায়েতের একশ্রেণির কর্মীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। শাসক-বিরোধী দু’পক্ষই নানা সময়ে এনিয়ে সরব হয়েছিল। এতে ব্লক ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের অস্বস্তিতে পড়তে হয়। কিছু ক্ষেত্রে তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়। তার রিপোর্ট নিয়ে আধিকারিকরা সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি। তবে রিপোর্টের জেরেই এই বদলির নির্দেশিকা বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে। এই দফায় ২৩জন নির্বাহী সহায়ক, ১৩জন সচিব, ১৮জন করে সহায়ক ও নির্মাণ সহায়কের বদলির নির্দেশিকা জারি হয়েছে।
জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন আধিকারিক অনির্বাণ রায় ফোন না ধরায় এবিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের দাবি, এটা রুটিন বদলি। এর সঙ্গে অন্য কিছুর সম্পর্ক নেই।
রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন অনুমোদিত পঞ্চায়েতরাজ শাখার জেলা সভাপতি শরদিন্দু পণ্ডা বলেন, এখনও বহু কর্মী অনেকদিন ধরে একই জায়গায় কর্মরত রয়েছেন। বাম আমল থেকে তাঁরা ওইসব জায়গায় মৌরসিপাট্টা চালাচ্ছেন। পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে এমন কর্মী বেশি রয়েছে। তাঁদের বদলির বিষয়ে আমরা প্রশাসনকে জানালেও পদক্ষেপ করা হয়নি। আবার সদ্য প্রকাশিত তালিকায় এমন অনেকের দূরে বদলি হয়েছে, যাঁদের শারীরিক সমস্যা রয়েছে। তাঁরা আমাদের বিষয়টি জানিয়েছেন। এনিয়ে সংগঠনের তরফে ফের প্রশাসনের দ্বারস্থ হব।
কয়েকমাস আগে বড়জোড়া পঞ্চায়েত এলাকায় একটি নিকাশিনালা তৈরি ঘিরে বিতর্ক দেখা দেয়। অভিযোগ ওঠে, জেলা পরিষদের তৈরি নিকাশিনালা দেখিয়ে পঞ্চায়েত থেকে এক ঠিকাদার বিল তুলে নেয়। জেলা প্রশাসনের তরফে এবিষয়ে বিডিওকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলার আরও কয়েকটি পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ প্রশাসনের কাছে জমা পড়ে। তার মধ্যে দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিলি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় পঞ্চায়েত কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতি ও উদাসীনতার অভিযোগ ওঠে। বাঁকুড়ার উত্তর প্রান্তের বড়জোড়ার নির্মাণ সহায়ককে জেলার দক্ষিণ প্রান্তের রাইপুর ব্লকের একটি পঞ্চায়েতে বদলি করা হয়েছে।
বিরোধীদের দাবি, শাসকদলের ছত্রছায়ায় থেকে কর্মীদের একাংশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের পাল্টা দাবি, বামমনস্ক কর্মীরা রাজ্য সরকারকে অপদস্থ করতে এসব কাজ করেছে।