Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জামালপুর থেকেই এসটিএফ ট্র্যাক করে বিহারের গ্যাংকে

হিন্দি সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায় বিহারের হাসপাতালের সেই শ্যুটআউটের দৃশ্য! পরপর পাঁচ দুষ্কৃতী পিছু পিছু

জামালপুর থেকেই এসটিএফ ট্র্যাক করে বিহারের গ্যাংকে
  • ২১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: হিন্দি সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায় বিহারের হাসপাতালের সেই শ্যুটআউটের দৃশ্য! পরপর পাঁচ দুষ্কৃতী পিছু পিছু।  কারও হাতে নাইনএমএম। কারও হাতে সেভেনএমএম। টার্গেটকে পয়েন্টব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে বিনা বাধায় বেরিয়ে যায় হাসপাতাল থেকে। বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমে সিসি টিভির ফুটেজ দেখে কেঁপে গিয়েছিল গোটা দেশ। ঘটনা হল, যাদের দেখে কাঁপুনি, সেই পাঁচ সশস্ত্র আততায়ী অপারেশন সফল করে পা বাড়ায় কলকাতার পথে। উদ্দেশ্য ছিল, কোনও এক গোপন ডেরায় গা-ঢাকা দেওয়া। মাঝ পথে পরিকল্পনা ভেস্তে দিল বিহার এসটিএফ। 

Advertisement

পাঁচ শ্যুটারের কাছে ছিল মোবাইল। তারা বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে কথাও বলে যাচ্ছিল। এসটিএফ ট্র্যাক করতে শুরু করে। কিন্তু, টাওয়ার লোকেশন কিছুতেই মিলছিল না। আসলে দুষ্কৃতীরা যে নম্বর থেকে ফোন করছিল সেটির সিমকার্ড বিহারের। তারা ছিল দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে। তাই লোকেশেন মিলছিল না। অবশেষে বিশেষ প্রযুক্তি কাজে লাগায় এসটিএফ। দীর্ঘক্ষণ পর জানা যায়, সিমকার্ড বিহারে থাকলেও দুষ্কৃতীদের অবস্থান দেখাচ্ছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের আঝাপুরে। গোয়েন্দারা বিশেষ সূত্রে জানতে পারেন,  দুষ্কৃতীরা কলকাতার তপসিয়ার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে। পরে তারা অবস্থান বদলায়। সঙ্গে সঙ্গেই বিহারের গোয়েন্দারা বেঙ্গল এসটিএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারপরই দুষ্কৃতীরা জালে ওঠে। 
রবিবার এসটিএফের এক আধিকারিক বলেন, দুষ্কৃতীরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্নজনের সঙ্গে যোগাযোগ করছিল। তবে তাদের মোবাইলে যে সিমকার্ড ছিল, সেটা তারা ব্যবহার করেনি। অন্য একটি নম্বর থেকে হোয়াটসআপ খুলেছিল। সেই সিমকার্ড বিহারের এক জায়গায় রাখা ছিল। সেই কারণে প্রথম দিকে বিশেষ প্রযুক্তি কাজে লাগিয়েও তাদের অবস্থান জানা যাচ্ছিল না। সাহায্য নিতে হয় অন্য পদ্ধতির। তখনই জানা যায়, কোন মোবাইল থেকে ওই হোয়াটঅ্যাপ নম্বরটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তাতেই সাফল্য আসে। দুষ্কৃতীরা দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে আসছে জেনেই বিভিন্ন ট্রোলপ্লাজা থেকে ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বিহারের ওই হাসপাতালে শ্যুটআউটের পর সেখানকার ‘টাওয়ার ডাম্প’ করা হয়। সেখান থেকেও বেশ কিছু তথ্য পাওয়া যায়। তবে সম্প্রতি অপরাধ করার পর দুষ্কৃতীরা হোয়াটসঅ্যাপে অন্য নম্বর ব্যবহার করছে। কয়েক দিন আগে বেঙ্গল এসটিএফ পূর্ব বর্ধমান থেকে দুই পাকচরকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাজ ছিল মোবাইল নম্বর এবং ওটিপি পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার কাছে পাঠানো। দুটি ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যে আলাদা হলেও অপরাধের ধরণ ছিল একই রকম। মোবাইল নম্বর এবং ওটিপি পেয়ে গেলে পাক গুপ্তচর সংস্থা খুব সহজেই পাকিস্তানে বসে ফোন করে কাজ হাসিল করতে পারত। সেক্ষেত্রেও তাদের অবস্থান বোঝা সহজ হতো না। একইভাবে বিহারের শ্যুটাররাও মোবাইল নম্বর এবং ওটিপি নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ খোলে। সেই অ্যাপ ব্যবহার করে তারা অপারেশন সারে। যদিও তারপরও তারা গোয়েন্দাদের নজরের বাইরে বেশিক্ষণ থাকতে পারেনি। উন্নত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়েই তারা শ্যুটারদের জালে তুলে নেয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ